গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চড়া সুরেf বলেছিলেন, “নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং আমাকে বলেছেন রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদি সেটা না করা হয়, তাহলে কিন্তু আরও চড়া শুল্ক চাপাব ভারতের উপরে”। এর কোনও জবাব দেয়নি নয়াদিল্লি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদলে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, দিওয়ালির শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেছিলেন তিনি। পরে নিজেই দাবি করেন, ‘মোদির সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। মোদি আমাকে বলেছেন, রাশিয়ার থেকে তেল একটু কম কিনবে ভারত’। অর্থাৎ সুর একেবারেই নরম, তিনি একবারও বললেন না যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে ভারত। এর মধ্যেই ওয়াশিংটনের ইঙ্গিত, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির দোড়গড়ায় দাঁড়িয়ে তাঁরা। ফলে খুব শিঘ্রই ভারতের উপর থাকা অতিরিক্ত ট্যারিফ প্রত্যাহার করা হতে পারে। অর্থাৎ ৫০ শতাংশ থেকে তা কমে আগের মতোই ১৫ শতাংশে নেমে আসবে। এটা ভারতের বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করছেন, রাশিয়ার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাকমেল এবং নার্ভের এই লড়াইতে ব্যাপক সংযম দেখিয়েছে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যেও ভারত মুখ খোলেনি। বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে কৌশলী বার্তা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, ট্রাম্পের কথায় পাত্তাই দিচ্ছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারত রাশিয়া থেকে শুধু তেল নয়, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও যে বড় বড় কয়েকটি চুক্তি করতে চলেছে, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছে নয়া দিল্লি। একেই বলা হয় বাণিজ্য-কূটনীতি! ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ফোন কুটনীতির মধ্যেই ভারত রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কয়েকটি চুক্তি করার দিকে কয়েক কদম এগিয়ে যায়। ফলে ট্রাম্প বুঝে যায় আর চাপ সৃষ্টি করে লাভ নেই। কারণ, ভারতের উপর উচ্চ ট্যারিফ বসিয়ে আখেড়ে ক্ষতি হচ্ছে মার্কিন বাণিজ্য। তাই ভারতের সঙ্গে ওয়াশিংটনও দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলতে চায় এখন।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চেয়েছিলেন, রাশিয়ার অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে। সেই কারণেই তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি ভারত ও চিনকে চাপ দিয়েছিলেন রাশিয়ার থেকে তেল-গ্যাস আমদানি বন্ধ করতে। আর সেটা করতে গিয়েই ট্যারিফ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু একমাত্র ভারতই প্রথম থেকে অনড় ছিল রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা নিয়ে।
অপরদিকে ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার বাজার অর্থনীতি আমেরিকার যাবতীয় বৃহৎ বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির সবথেকে লাভজনক গন্তব্য। আবার ভারত বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ। এ হেন ভারতকে শত্রুতে পরিণত করে ফেলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধেই জনমত তৈরি হতে শুরু করে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই। তাঁর হুমকি পাত্তা না দিয়ে একাধিক অ্যাপল. গুগল, আমাজনের মতো বৃহৎ সংস্থা ভারতে বিনিয়োগ করতে চুক্তি করতে শুরু করে। এতে মার্কিন অর্থনীতির আকাশে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেন সে দেশের অর্থনীতিবিদরা। অন্যদিকে ভারত একবারও আমেরিকাকে সরাসরি আক্রমণ করেনি। কিন্তু ওয়াশিংটনের শঙ্কা বাড়িয়ে চীন-রাশিয়ার সঙ্গে জোট বাঁধার বার্তা দিল নয়া দিল্লি। নরেন্দ্র মোদি বুঝিয়ে দিলেন, ভারত কোনও অবস্থাতেই মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করবে না। উল্টে রাশিয়া থেকে আরও এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমস কিনতে চলেছে ভারত। পাশাপাশি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বদলে রাশিয়ার এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট কিনতে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। সুতরাং দিল্লি-মস্কো বন্ধুত্ব অটুটই থাকছে। আর এটা বুঝে গিয়েই হাল ছাড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেটা হল দীপাবলির আবহেই। কারণ, হোয়াইট হাউসে দীপাবলি উদযাপন করতে গিয়েই ট্রাম্প বললেন, ‘মোদি ইজ আ গ্রেট পার্সন…অনেক বছর ধরে আমার প্রিয় বন্ধু। আমরা বাণিজ্য নিয়ে অনেক কিছু চর্চা করলাম’। তারপরেই ওয়াশিংটনের ইঙ্গিত এল ভারতের উপর থাকা অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ ট্যারিফ প্রত্যাহার করা হতে পারে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভরসা করা বিপজ্জনক, কারণ তিনি না আঁচালে বিশ্বাস নেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post