কেউ কেউ বলছেন, ১৯৭১ সালে হারিয়ে যাওয়া বড় ভাইকে খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। বলা ভালো, খুঁজে এনে দিয়েছে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তত বাংলাদেশের পাকিস্তানপ্রীতি দেখে তাই মনে হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি জাহাজ ভিড়ছে। যা দেখে বাংলাদেশের অন্দরেই বহু মানুষ আতঙ্কিত। প্রশ্ন তুলছেন তারা। কিন্তু ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যা শুরু করেছে, তাতে দেশকে আর পাকিস্তানীদের হাত থেকে বাঁচানো যাবে না বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। আইএসপিআরের তরফে বলা হয়েছে, শুভেচ্ছা সফর এটি। কিন্তু অনেকে বলছেন, এটি শুধু শুভেচ্ছা সফর নয়। তবে কি এমন এল পাকিস্তান থেকে?
জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানি নৌ বাহিনীর জাহাজ ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। পিএনএস সাইফ নামে একটি জাহাজ এসেছে ৪ দিনে শুভেচ্ছা সফরে। ১২ নভেম্বর ওই জাহাজটি বাংলাদেশ ত্যাগ করবে। জানা যায়, শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছলে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের পক্ষ থেকে ফিফ্থ স্টাফ অফিসার জাহাজের কর্মকর্তাও নাবিকদের স্বাগত জানান। এমনকি নৌবাহিনীর সজ্জিত বাদক দল ব্যান্ড পরিবেশন করে। উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিনিধি-সহ নৌবাহিনী উচ্চপদস্থ কর্তারা। তাঁরা উপস্থিত থেকে জাহাজ থেকে স্বাগত জানায়। এর আগে ওই জাগাজটি বাংলাদেশের জলসীমা এসে পৌঁছলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাদ বানৌজা স্বাধীনতা তাদের অভ্যুত্থনা জানায়। এমনটাই জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের আইএসপিআরের তরফে। আন্ত বাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর জানাচ্ছে, বাংলাদেশে অবস্থিত জাহাজটির অধিনায়ক এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-সহ চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের প্রতিনিধি দল কমান্ডার এবং কমান্ডার বিএন ফ্লিট সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্মকর্তা ও নাবিক পাকিস্তানি জাহাজটি পরিদর্শন করেন বলে জানা যায়। পাকিস্তান নৌ বাহিনী জাহাজের বাংলাদেশ সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে হয় বা সৌজন্যমূলক সফর হয়, তবে কয়েকজন প্রতিনিধি দল এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করে চলে যেত। কিন্তু একটি জাহাজ নিয়ে যখন পাকিস্তান এসেছে, এবং একটি বন্দরকে যখন বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য সমস্ত রকম জোগার করে ফেলে সরকার, তখন একটি পাকিস্তানি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এলে সেটা দেশের জন্য নিরাপদ কি আদেও? সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের একটি কোম্পানি ৩২ টন পাখির খাদ্য আমদানি করেছে পাকিস্তান থেকে। তারমধ্যে ২৫টন নাকি নিষিদ্ধ মাদক। দুটি কন্টেনারে এই পণ্য আমদানি করেছে চট্টগ্রামের কুরবানিগঞ্জের মের্সাস আদিব ট্রেনিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান। অঙ্কুরোদ্দম উপযোগি হলে পপি বীজ মাদক বলে গণ্য করা হয়। সরকারি নীতি আদেশে এটি নিষিদ্ধ। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমদানিকৃত বীজের মূল্য সাড়ে ছয় কোটি। এটি কাস্টমস অফিসারদের নজরে এলে আমদানি স্থগিত করা হয়। এরপর পরীক্ষা-নিরিক্ষা করতে গেলেই সেটি চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে জাহাজ এলে সন্দেহের দানা বাঁধায় স্বাভাবিক। তবে এইবার সফরের আসল উদ্দশ্য সামনে আসে কিনা, সেটাই দেখার।












Discussion about this post