হাফিজ সইদ জঙ্গিদের শীর্ষ তালিকায় একটি নামে যথেষ্ট। ২৬/১১-র মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড। এবার নাকি নতুন করে সাজাচ্ছে ঘুঁটি বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে। ভারতবাসীকে ফের একবার বিপদে ফলতে তৎপর হয়েছে এই কুখ্যাত জঙ্গি। নতুন করে ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে উঠে আসছে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনার তথ্য। পাকিস্তানের এই সন্ত্রাসবাদী আবারো নতুন করে ছক কষছে ভারতকে উত্তাল করার।বাংলাদেশে ঘাপটি মেরে ভারতের উপর জঙ্গি হামলার ছক চালাচ্ছে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তোইবা সংগঠনের প্রধান আন্তর্জাতিক জঙ্গির তকমা পাওয়া হাফিজ সইদ।ভারতে হামলার ছল চাতুরি খোঁজায় ব্যস্ত আছে বলেই ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর।এর জন্য বাংলাদেশে নতুন নতুন ঘাঁটি তৈরির কাজ চালাচ্ছে হাফিজ সইদ।হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে ভারত বিদ্বেষ। তার একমাত্র কারণ প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনূস ও তার ভারতবিদ্বেষী মনোভাব। ইউনূসের রাজত্বেই বাংলাদেশে বাড়ছে ইসলামিক উগ্রবাদীদের দাপট। যার ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রাণ আজ ওস্তাগত। তার মধ্যে দিকে চুরি ছিনতাই খুন রাহাজানির মতন ঘটনা আজ বাংলাদেশে জলভাগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই আবহে হাফিজ সইদের মতো জঙ্গিরা ভারতে হামলার ছক করছে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করে।গত ৩০ অক্টোবর পাকিস্তানের খইরপুর তামেওয়ালিতে এক বিশাল জনসভার ভিডিও রেকর্ডিং গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে। যেখানে দেখা গিয়েছে, লস্করের শীর্ষ এক কমান্ডার সইফুল্লা সইফ বিরাট বিপজ্জনক তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন।গোয়েন্দা সূত্রে খবর, হাফিজ ‘জিহাদের’ পরিকল্পনা করছে। এমনকি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ভারতবিরোধী কাজে তাতাচ্ছে বাংলাদেশের স্থানীয় যুবকদের।তাদের মনে মৌলবাদী চিন্তাভাবনা জোরপূর্বক কৌশলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য হাফিজ তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। এবং গোপনে জঙ্গি শিক্ষার সমস্ত সাজসজ্জা বাংলাদেশ সে সুকৌশলে চালাচ্ছে।আর এসবই ভারতের গোয়েন্দারা অতি সক্রিয়তার সহিত জানতে পেরেছেন একটি ভিডিও মারফৎ। সেখানে সইফকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার জন্য প্রকাশ্যে মানুষকে উস্কে দিতে দেখা যাচ্ছে। তবে এখানেই সুস্পষ্ট হয়ে যায় ইউনূসের বাংলাদেশে কি চলছে!এমনকি ভারতের বিরোধিতার জন্য কিভাবে ভারতের ক্ষতি করা যায় তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গোপনে বাংলাদেশে বসে পাকিস্তানের জঙ্গিরা চালাচ্ছে।ভিডিওতে এই গোপন জঙ্গি প্রশিক্ষণে বাংলাদেশি শিশুদেরও উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কাজেই বুঝে নিতে অসুবিধা নেই যে তাদের টার্গেট শৈশব থেকেই তাদের ভারববিরোধী করে তোলা। ভারতের বিরুদ্ধে জিহাদি মনোভাব তৈরি করে দেওয়া।আরও একটি তথ্যে সুস্পষ্ট হয়েছে, সইদ তাঁর আরো এক অতি ঘনিষ্ঠকে অতি কৌশলে সম্প্রতি বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন। যিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় মসজিদ-মোক্তবে গিয়ে স্থানীয় যুবকদের কট্টরপন্থী জেহাদের সুস্পষ্ট অর্থ হাতে ধরে বুঝিয়ে উদ্বুদ্ধ করছেন।
কাজেই ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে উঠে আসা যে ভয়ংকর রিপোর্ট তা মোটেই ভালোভাবে দেখছে না নয়া দিল্লি। এমনকি
ভিডিওতে সাফ স্পষ্ট হয়েছে যে, সইফ খোলাখুলি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ডাক দেন। এই কাজে পাকিস্তানি জঙ্গিরা যে কিশোর-নাবালকদের তালিম দিচ্ছে সেটিও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কারণ ওই জনসভায় প্রচুর সংখ্যায় অপরিণত বালক ও কিশোর উপস্থিত ছিল।এমনকি ‘বাংলাদেশের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক খুব কাছাকাছি চলে এসেছে’, এসব কথা বলে জনসভায় উপস্থিত সকলের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই ইউনুস তার বাংলাদেশে যে জঙ্গি গোপনে শ্রীবৃদ্ধি ঘটাচ্ছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।সাইফুল্লাহর বক্তৃতায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রশংসা অন্যদিকে ৯-১০ মে রাতের পর পাকিস্তান জবাব দিয়েছে। সে কথাও বলতে ভুলেননি তিনি।পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশও পাকিস্তানের কাছাকাছি চলে আসার দাবি করেছে সাইফুল্লাহ।তার দাবি, আমেরিকা তাদের সঙ্গে আছে। বাংলাদেশও আবার পাকিস্তানের কাছাকাছি আসছে। এই ভাবে জোটবদ্ধ হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলা করার হুঙ্কার ছাড়ে সে।
কাজেই বোঝাই যাচ্ছে ভারত বিদ্বেষী ইউনূসের বাংলাদেশ যে জঙ্গিদের ডেড়ায় পরিণত হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Discussion about this post