সোমবার থেকে নতুন উদ্যমে রাস্তায় নেমে পড়েছে আওয়ামী লীগ। আজ থেকে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চারদিন ধরে বাংলাদেশজুড়ে বড় আকারের মিটিং মিছিল এবং সমাবেশের ডাক দিয়েছে। ওই দিন তারা লকডাউনের ডাক দিয়েছে। ওই দিন বাংলাদেশ অশান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে সে দেশের একাধিক গণমাধ্যম এবং ভারতের প্রথম সারির গণমাধ্যমে একটি খবর প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পুলিশ মকড্রিল করেছে। মকড্রিল হয়েছে ঢাকার ১৪২টি জায়গায়। অংশ নেয় সাত হাজার পুলিশকর্মী। রাজধানী ঢাকা সহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে এই নিরাপত্তার কারণ কিছু জানানো হয়নি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সরকারি বাসভবনের সামনেও মহড়া চলেছে বলে খবর। লকডাউনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তাল হলে তা মোকাবিলায় এই মহড়া বলে অনুমান। যদিও বাংলাদেশ পুলিশ তা নিশ্চিত করেনি।
আওয়ামী লীগের প্রিসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গির কবীর নায়ক বর্তমানে দিল্লিতে আছেন। সেখান থেকে তিনি আগামী ১৩ নভেম্বর লকডাউন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ বিরোধী একটি পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে রাজধানীতে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আদালত ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বোমাবাজিরও সিদ্ধান্তন নেওয়া হয়েছে। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে, এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করতে সাহায্য করছেন মনিরুল এবং ডিএমপির প্রাক্তন কমিশনার হাবিব। আর এই রাজনৈতিক কর্মসূচির দায়িত্বে রয়েছেন আসাজুম্মান খান। দলীয় সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে হাসিনার রায় ঘোষণার দিন আওয়ামী লীগ গোপালগঞ্জ এবং মাদারিপুরে অশান্তি এবং অরাজক পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। গত রবিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ঢাকা লকডাউন নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। সেনা বাহিনী আগের মতোই মাঠে থাকবে। পাশাপাশি আপাতত দেশে আওয়ামি লিগের যাবতীয় কার্যক্রম যে নিষিদ্ধ, তা ফের মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের উচ্চপদস্থকর্তারা রবিবার বৈঠক করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরি ছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশের ডিজি বাহারুল আলম, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষকর্তারা।বৈঠকে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। নির্বাচনী কাজে সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে ময়দানে থাকা জওয়ান ও অফিসারদের ৫০ শতাংশকে দিন দর্শক আগে ক্যান্টনমেন্টে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। রবিবার রাতে নিরাপত্তা এজেন্সি এবং গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নেয়, ব্যারাকে ফিরে যাওয়া সেনাদের আবার পূর্ণমাত্রায় মাঠে নামানো হবে। ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত গোটা সেনাবাহিনী পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। আওয়ামী লিগ যাতে জনজীবন অচল করতে না পারে সে কারণেই সেনাবাহিনীকে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ অনুসারে, রবিবারও ঢাকা পুলিশ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের ২৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের এক মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের কথায়, “যে কোনও ধরনের জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য মহড়া দেওয়া আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে।”
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post