প্রতিবেদনের বিষয় মনে করা নাট্যকার বাদল সরকারের ত্রিংশ শতাব্দি নাটকের সেই সংলাপ – ‘ভয়ে মানুষের বুদ্ধি লোপ পায়, ভয়ে মানুষের চেতনা জাগে। পৃথিবীর আদিমতম অনুভূতি এই ভয় মানুষকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’
বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের এখন সেটাই হয়েছে। তাঁকেও তা়ডা করে বেরাচ্ছে ভয়। একটা না অনেকগুলো ভয় নখ-দাঁত বের করে তাঁর সর্বাঙ্গে আঁচড় দিতে উদ্যত। প্রথম ভয় হাসিনা। দ্বিতীয় ভয় আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কর্মসূচি। তৃতীয় ভয় দূর্বল পুলিশ সেনা। আর চতুর্থ ভয় দূর্বল প্রশাসন। ইউনূস বুঝে গিয়েছেন আওয়ামী লীগ চারদিনের যে কর্মসূচি সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সেই কর্মসূচিকে কোনওভাবে সেনা ও পুলিশ দিয়ে প্রতিহত করতে পারবেন না। তাই, তৈরি করেছেন নিজস্ব ‘ডন’। বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম এই খবর দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদারকি সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নির্দেশেই এই বাহিনী তৈরি করা হয়েছে। এই মর্মে ৭ নভেম্বর একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকা মোতাবেক, এই মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় সাতহাজার। তাদের পরনে থাকবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পোশাক। এই মিলিশিয়া বাহিনীকে নটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। নটি সেক্টর হল রামনা, মোতিঝিল, ওয়ারি, লালবাগ, তেজগাঁও, গুলশন, মীরপুর এবং উত্তরা।
এই নটি সেক্টরের ৪৯টি পুলিশ স্টেশনে এই মিলিশিয়া বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যেক থানা এলাকায় এক প্লাটুন করে বাহিনী রাখা হয়েছে।
বাহিনীর জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোলরুম। দায়িত্বে রয়েছে একজন ডেপুটি কমিশনার এবং অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার। ওই কন্ট্রোলরুম থেকে এই মিলিশিয়া বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে। তারা সেই নির্দেশের মতো অ্যাকশন নেবে। সেই অ্যাকশনের রিপোর্ট এক ঘণ্টা অন্তর চেয়ে নেওয়া হবে। সেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশের পদস্থকর্তাদের কাছে।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের ওই গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই মিলিশিয়া বাহিনী আগামী চারদিন রাস্তা থাকবে। প্রত্যেকের হাতে দেওয়া হয়েছ ওয়্যারলেস। বাহিনীর প্রধান সহ বাহিনীর সব সদস্যকে দেওয়া হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। পরিস্থিতি যদি হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়, তাহলে পুলিশ গুলি চালাবে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তেমনই।
এই চারদিন ঢাকার প্রতিটি রাস্তায় থাকবে পুলিশের ভ্যান। সোমবার থেকে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে আওয়ালী লীগের কর্মসমর্থকদের মধ্য যদি কোনও কারণে খণ্ডযুদ্ধ বাধে, তাহলে আহত পুলিশকর্মী এবং আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের দ্রুত যাতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করা যায়, তার জন্য ঢাকার প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পুলিশের ভ্যানগাড়ি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দাদের তরফে সরকারের কাছে একটি রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী ১৩ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় বড়ো ধরনের গোলমাল হতে পারে। আওয়ামী লীগ তেমন এক কর্মসূচি নিয়েছে। আমার ইতিমধ্যেই জেনে গিয়েছি ওই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যূত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাজা ঘোষণার দিন জানাবে।
অপর দিকে আওয়ামী লীগের কর্মসমর্থকেরাও নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তারা কাজ করছে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া জাহাঙ্গির কবীরের নির্দেশে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post