একদিকে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের হুঁশিয়ারি, অপর দিকে দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। আর অপারেশন সিঁদুরের স্মৃতি তো রয়েছে। আবার সীমান্তে মঙ্গলবার থেকে ভারতীয় সেনার তিন শাখা যৌথভাবে শুরু করেছে মহড়া ‘পূর্বী প্রচন্ড প্রহার’। ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছে রাওয়ালপিন্ডি সেনাসদরের ভদ্রলোক জেনারেল আসিম মুনির আহমেদ শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এতটাই ভয় পেয়েছে যে ইসলামাবাদ জারি করেছে নোটাম (নোটিশ টু এয়ারম্যান)। মঙ্গলবার থেকে নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে। চলবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত।
বাহিনীর তিন শাখার জন্য জারি করা হয়েছে হাইঅ্যালার্ট। সেন্ট্রাল কম্যান্ড থেকে বাহিনীর সব শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখার। প্রয়োজনে তাদের জমিতে নামার নির্দেশ দেওয়া হলে তারা যেন মিলিমাইক্রো সেকেন্ডের মধ্যে মাঠে নেমে পড়তে পারে। ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুসেনাকে স্ট্যান্ডবাই থাকতে বলা হয়েছে। নির্দেশ গিয়েছে এমনভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার যাতে রাওয়ালপিন্ডি থেকে কম্যান্ড আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা যেন প্রপেলারের ইঞ্জিন চালু করে দেয়। এক সেকেন্ড দেরি করা যাবে না। সে দেশের সব বায়ুসেনা ছাউনিকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনও কারণে আকাশপথে হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে যাতে পাল্টা হামলা করা যায় তার জন্য বায়ুসেনা যেন তৈরি থাকে।
সোমবারের হামলার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দফায় দফায় তাঁর মন্ত্রকের পদস্থকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রথম বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, ইন্টেলিজ্যান্স ব্যুরোর ডিরেক্টর তপন ডেকা, দিল্লির পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা, জাতীয় তদন্ত সংস্থার ডিজি সদানন্দ বসন্ত দাতে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলা-পরবর্তী পর্বের পরিস্থিতির ব্যাপারে তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবগত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বলেন, এই হামলার সঙ্গে যে বা যারা জড়িতে যেভাবেই হোক তাদের খুঁজে বের করতে হবে। জানতে হবে এর উৎস কোথায়। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ওই গণমাধ্যম থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামীকাল ভুটান থেকে দেশে ফিরে মন্ত্রিসভার জরুরী বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে সব মন্ত্রীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, এদিন দুপুরে আরও একটি বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকের পর তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেছি। নির্দেশ দিয়েছি এই ঘটনায় সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হোক। দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না। এজেন্সগুলি কঠোরতম পদক্ষেপ করবে। ’
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল। মূলত এটা ব্যবহার করা হয় শিল্পক্ষেত্রে। সেটাই অপরাধীদের ক্ষেত্রে হয়ে ওঠে হামলার অস্ত্র। বিস্ফোরণের পরে পরে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি পৌঁছে যায় জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ। পৌঁছে যান এনএসজি, ফরেন্সিক দল। বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে একটি আই ২০ গাড়ি। গাড়ির নম্বরপ্লেট দেখে গাড়ির মালিককেও পুলিশ চিহ্নিত করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, যে গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেই গাড়িতে ছিলেন মাত্র একজন। দিল্লি পুলিশ এদিন নানা প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।












Discussion about this post