‘আমার সোনার বাংলা/, আমি তোমায় ভালোবাসি। / চিরদিন তোমার আকাশ, /তোমার বাতাস, /আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি’।
বর্তমান বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে কোনও এই গানের কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনার আমলের বাংলাদেশ আর ইউনূসের আমলে বাংলাদেশ তফাৎ দৃশ্যতই চোখে পড়ার মতো। এরকমটা যে হতে পারে, তার একটা আভাস কিন্তু গত বছরেই পাওয়া গিয়েছিল। ঠিক যেমন প্রথম সূর্যের কিরণ বুঝিয়ে দেয় দিনটা কেমন হতে পারে।
ইউনূস তখন প্যারিসে। বাংলাদেশ শাসনের ভার নেওয়ার জন্য প্যারিস থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। ভারতের বিরুদ্ধে আলটপকা মন্তব্য করে বসলেন। জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশ কোনও ভাবে আক্রান্ত হলে উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি এমনকী কলকাতা রক্ষা পাবে না। প্রশ্ন উঠছে, ভারত কী কোনও কালে কোনও দেশকে বিনা প্ররোচনায় হামলা চালিয়েছে? ভারতের বিদেশনীতি তো স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর হামলা সমর্থন করে না। অনেকে এখন বলছেন, ইউনূস জানতেন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে হলে বাংলাদেশের ভারত-বিরোধী শক্তিকে পকেটস্থ করতে হবে। সেটার সুফল তিনি পেয়েছেন। এখন কিন্তু সেই শক্তি যমুনার বাসিন্দার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে। তারা এখন তুলনা করছে হাসিনার আমলের বাংলাদেশের সঙ্গে এই আমলের বাংলাদেশের। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কিন্তু ভারতের পাশে। তারা জানে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের জন্য ভারতের অবদানের কথা। ভারত যদি ৭১-য়ের যুদ্ধে পাশে না থাকত, তাহলে বাংলাদেশের জন্মই হত না।
দেশের করুণ রাজনৈতিক অবস্থার মতো অর্থনৈতিক অবস্থাও করুণ। একটা দেশকে খাদের কিনারে নিয়ে গিয়েছেন সেই মানুষ, যে নাকি একসময় ব্যাংকে চাকরি করতে। বাংলাদেশের জিডিপি দেখে পাকিস্তানও লজ্জা পাবে। ২৩-২৪ অর্থবর্ষে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৪.২২ শতাংশ। আর চলতি অর্থবর্ষে (অক্টোবরের হিসেবে অনুযায়ী, ৩.৯৭ শতাংশ। ২৩-২৪ অর্থবর্ষে বাংলাদেশ কার শাসনের ছিল তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তদারকি সরকারের আমলে মাথা পিছু আয় ২.৮২০ মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর বাংলাদেশের সাহায্য করবে না। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সাহায্য নিয়ে তারা আলোচনায় বসবে।
বাংলাদেশে এর আগে একাধিকবার ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। দেখেছে সেনাশাসন। কিন্তু অতীতে সেই দেশের কোনও শাসকের গলায় শোনা যায়নি ভারত-বিদ্বেষী কথাবার্তা। আর সেই সুজলা-সুফলা বাংলাদেশকে কার্যত নরকে পরিণত করেছেন ইউনূস। হাসিনার সাজানো দেশে ঘটেছে এক দৈত্যের আগমন। বাংলাদেশের মাটি হয়ে উঠেছে জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য। মৌলবাদী শক্তি যারা মাথা তোলার হিম্মত দেখাতে পারত না, আজ তারাও দিল্লির বিরুদ্ধে গলা চড়িয়েছে। নষ্ট করেছে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ। সংখ্যালঘুদের ওপর বাড়ছে নিপীড়ন, নির্যাতন। রাজনৈতিক সহিংসতা রয়েছে। প্রতিটি দেশেই মৌলবাদী শক্তি রয়েছে। কিন্তু সরকার কড়া হলে, দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং আইনের শাসন থাকলে তারা মাথা তোলার সাহস করে না। সেই মৌলবাদী শক্তিকে মাথায় তুলেছেন এই ইন্টারন্যাশনাল খিলাড়ি। হয়তো ভুলে গিয়েছেন এই মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ একদিন তাঁর কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেবে। অথবা বুঝেও এখন আর কিছু করতে পারছেন না। কারণ, বাংলাদেশের অবস্থা এখন এরকম ফ্রম ফ্রাইং ফ্যান টু ফায়ার। এখন বাংলাদেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ চাইছে, যত তাড়াতাড়ি ইউনূস বিদায় হয়, ততই ভালো।












Discussion about this post