বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ডক্টর মহম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সদস্য সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গোপনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ সফর করেছেন। ৪ – ৭ ই নভেম্বর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এই সম্মেলন জলবায়ু, পরিবেশ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেখানে উপস্থিত হন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাণী সম্পদের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনের খবর বাংলাদেশে গুরুত্বের সাথে প্রচার হলেও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এই সফরটি জনসমুক্ষে আসেনি। বাংলাদেশের গণমাধ্যম গুলিতে কোথাও নেই এই সংক্রান্ত কোনও খবর। এই গোপন পাকিস্তানে সফর ফাঁস করেছে ভারতের একটি গণমাধ্যম নর্থ ইস্ট। সেখানে বলা হয়, রিজওয়ানা হাসান সরকারি অনুমোদন পেলেও সফরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ইসলামাবাদে থেকে যান আরও ৩ দিন। তার সাথে ছিলেন তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক ও ৩ জন আত্মীয়। অর্থাৎ, এটি সরকারি সফর হলেও তা পরিণত হয়েছিল পারিবারিক সফরে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, রিজওয়ানা কূটনৈতিক পাসপোর্টে সফর করেছিলেন। কিন্তু চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, এই সফরের বিমান ভাড়া, হোটেল ব্যায় ও পরিবহন খরচ বহন করেছে জাপানের ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রমেন্ট স্ট্রাটেজিস। অর্থাৎ, সফরটি সরকারি হলেও তার অর্থায়ন করেছে বিদেশী সংস্থা। প্রশ্ন উঠছে, কেন সফর গোপন রাখা হল ? তাহলে কি পরিবেশ সম্মেলনের অজুহাতে পাকিস্তান সফর ? নাকি এর আড়ালে চলছে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক খেলা ?
পাকিস্তানের এক জনপ্রিয় পত্রিকা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসলামাবাদে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তার বক্তিতায় জানায়, নদীর উজানের দেশ গুলির আঞ্চলিক বিরোধে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন হুমকিতে রয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দেখছে উজানের দেশ গুলি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জল প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে।
রিজওয়ানা হাসানের এই মন্তব্যে প্রশ্ন উঠছে, তিনি এ ধরণের মন্তব্য কী ভারতের উদেশ্যে করলেন ? কারণ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে ভারত নাকি নদীতে বাঁধ দিয়ে তাদের জল প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। এই অভিযোগই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জল সংঘাতের কারণ।
ইউনুস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে আসার পর থেকেই ভারত – বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। এমনিতেই ইউনুস নয়া দিল্লির সন্দেহের তালিকায়। বাংলাদেশে পাকিস্তানী জাহাজ আসতে দেখা গেছে পাশাপাশি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক পর্যায়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ হচ্ছে নিয়মিত এবং পাকিস্তানের বহু নামি ব্যক্তি সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। আর এই আবহেই বাংলাদেশের একজন উপদেষ্টার পাকিস্তান সফর কাকতালীয় ঘটনা নয়।












Discussion about this post