জামাত শিবির আগেই বলেছিল ১০ ই নভেম্বরের মধ্যে তাদের দাবি না মানলে তারা আজ অর্থাৎ ১১ ই নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় সমাবেশ করে সেখান থেকে তারা কঠর আন্দোলনের ঘোষণা করবে। রাজধানী ঢাকাকে তারা অচল করে দেবে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের তরফ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ১৩ ই নভেম্বর। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণ মাদ্ধমের দাবি, তারা নাশকতার ছক কষেছে। পাশাপশি ১৩ ই নভেম্বর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ, আগামী ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণার তারিখ জানাবে। ফলে সব মিলিয়ে চরম থমথমে ভাব, উদ্বেগের পরিস্থিতি গোটা বাংলাদেশ জুড়ে, বিশেষত রাজধানী ঢাকাতে। সমঝোতা না হলে সরকারের তরফে ৭ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ও ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। ফলে সরকার যাই সিদ্ধান্তই নিক না কেন তা কারুর না কারুর পক্ষেই যাবে।
কয়েদিন ধরে আলোচনা চলছে, যে সরকার দুই পক্ষকেই খুশি করার চেষ্টা করবে। যেমন, জাতীয় নির্বাচন ও গণ ভোট একই দিনে দিয়ে সরকার বিএনপি কে খুশি করবে। উচ্চ কক্ষের পিয়ার দিয়ে সরকার জামাত কে খুশি করবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই পিয়ার কি বিএনপির পক্ষে মানা সম্ভব ? বিএনপি কি সেইটা মানবে ? অন্যদিকে, জুলাই সনদের আদেশ চায় এনসিপি। সেইটা দেখেই তারা সাক্ষর করবে তা তারা বলে দিয়েছে। পাশাপাশি গণ ভোট আগে করানোর দাবিতে অনড় জামাত। কারণ, গণ ভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হলে তারা যা চায় সেই ফলাফলটা তারা পাবে। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জামাত সবচেয়ে মোক্ষম সময়ে আছে। সরকার তাদের বুঝে চলে এবং তারা নতুন নতুন বয়ান তৈরী করতে পেরেছে সাথে তারা ও তাদের কাছাকাছি রাজনৈতিক দলগুলি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ কে আন্ডার মাইন্ড করতে পেরেছে। সংবিধানের যে ধারা মেনে বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পেরেছে সেগুলিকেও তারা বিতর্কের মধ্যে নিয়ে আসতে পেরেছে। ফলে জামাতের জন্যে এগুলি বড় পাওয়া।
অপরদিকে, বিএনপির জন্যে একজন মুক্তিযোদ্ধার দল হিসেবে রণাঙ্গণের অনেক মুক্তিযোদ্ধা যে দলটিতে আছে তাদের জন্য এগুলি মেনে নেওয়া কঠিন। এগুলি তারা মেনে নিলে মুক্তিযুদ্ধের সেই পরিচয় তারা বহন করতে পারবে না। জামাতের এই সকল শক্তি সঞ্চয়ের পিছনে দায় রয়েছে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের। এ কারণের জন্য জামাত ও এনসিপির ধারণা আওয়ামীলীগের সকল ভোট তাদের কাছে যাবে। অর্থাৎ, যে আওয়ামীলীগের পদে পদে তারা দোষ খুঁজে বেড়ায় সেই সকল আওয়ামীলীগের কর্মী – সমর্থকদের ভোট তারাও চায়। বিএনপি অবশ্য এই বিষয়ে নীরব। বিএনপি আওয়ামীলীগ কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পক্ষে প্রথমের দিকে ছিল না। শুধু আওয়ামীলীগই নয়, কোনও রাজনৈতিক দলকেই তারা নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে ছিল না।
বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলই ক্ষমতা দখলের জন্য আসন্ন নির্বাচনে জিততে মরিয়া। জামাত – ই – ইসলামী গোটা দেশে একটা প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। ফলে তাদের ধারণা গত দেড় বছরে প্রশাসনে তারা জায়গা করে নিয়েছে, সরকার তাদের পক্ষে, পুলিশে তাদের প্রভাব বেড়েছে, সংখ্যালঘুদের পূজা আর রোজা তারা এক করে দিয়েছে, রাজনৈতিক দল এনসিপির মধ্যে তাদের প্রভাব আছে, জুলাই – অগাস্ট গণ অভ্যুত্থানে তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল, দেশে নানান বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা জয়ী হতে শুরু করেছে অর্থাৎ তরুণদের ভিতরে তাদের একটা প্রভাব আছে, বিএনপির সম্মান ক্ষুন্ন করতে পেরেছে তারা, পাশাপাশি আওয়ামীলীগের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা তাদের রয়েছে। ফলে দেশে সব দিক থেকে জামাত শিবির কৌশলের মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণ করে নিয়েছে।












Discussion about this post