লাল কেল্লার বিস্ফোরণ নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়ে দিলেন, বিস্ফোরণের মাথাদের রেয়াত করা হবে না। দেশের তদন্তকারী সংস্থা এর শেষ দেখে ছাড়বে। যারা যারা এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে, তাদের একজনও পার পাবে না বলে মঙ্গলবার ভূটান কড়া বার্তা দিলেন। প্রধানমন্ত্রী দুদিনের সফরে ভুটান গিয়েছেন।
এদিন রাজধানী থিম্পুতে বিশ্ব শান্তি সম্মেলন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সেই সম্মেলনে প্রাক্তন ভুটানরাজ জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের ৭০ তম জন্মদিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজপরিবার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। এছাড়া দুদিনের একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তিনি ভুটানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন ‘সমগ্র জাতির সঙ্গে আমিও আমার দাদা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভুটানে স্বাগত জানাচ্ছি। ’ বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি সরাসরি চলে যান চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে। ওই স্টেডিয়ামে বসেছে বিশ্ব শান্তি সম্মেলন।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আজ আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে এখানে এসেছি। সোমবার দিল্লির ভয়াবহ ঘটনা আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে। সারারাত আমি সমস্ত কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যগুলি নিয়ে তাদের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি বিস্ফোরণে হতাহতদের পরিবার কতটা মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করছে। দেশ আপনাদের এই দুঃসময়ে পাশে রয়েছে। যারা যারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদের সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে।’
দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ভুটান রাজ জিগমে ওয়াংচুক। তিনি বলেন, ‘দিল্লি বিস্ফোরণ যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সমগ্র ভুটানবাসী সমবেদনা জ্ঞাপন করে। আসুন আমরা সকলে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং তাঁর দেশের জন্য প্রার্থনা জানাই। আমাদের প্রার্থনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে শুভ উদ্দেশ্য নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাঁর সেই উদ্দেশ্য যেন সফল হয়। সেই উদ্দেশ্য সাধনের পথে যদিও কোনও বাধা তৈরি হয়, সেই বাধাকে তিনি যাতে অতিক্রম করতে পারেন, তার জন্য ঈশ্বরের কাছে আমাদের প্রার্থা, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি যেন সেই শক্তি দেন। আপনি যে উজ্জ্বল ভারত, আত্মনির্ভর ভারত, মজবুত ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের বিশ্বাস আপনি সেই স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হবেন। ’ সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘দুই দেশের মধ্য বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার বিশেষ বন্ধনকে শক্তিশালী করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।’ ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, এই সফর ভুটান-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, সোম সন্ধ্যায় লালকেল্লার সামনে সিগন্যালে দাঁড়ানো একটি হুন্ডাই আই ২০ গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন ২০ জন। তাঁর মধ্য বেশ কয়েকজনের আঘাত গুরুতর। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় তদন্ত সংস্থা, এনএসজি সহ একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে। গাড়ির মালিক মহম্মদ সলমনকে সোমবার রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে। শুরু হয়েছে ম্যারাথন জেরা। মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও কয়েকজনকে দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এদিন সকাল থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দফায় দফায় মন্ত্রকের পদস্থকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।












Discussion about this post