দিল্লির জনপথ রোডের বিশাল অট্টালিকার বাসিন্দার বুদ্ধি যে কতটা ক্ষুরধার, অতীতে তাঁর প্রমাণ মিলেছে। প্রমাণ পাওয়া গেল আরও একবার। যে আমেরিকা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে তারা তর্জনি যে দিকে হেলাবে দুনিয়া সেই দিকে হেলে পড়বে, সেই আমেরিকাও এখন বাংলাদেশ ইস্যুতে সাউথব্লকের পাশে। ওয়াশিংটন ডিসির মালিক বুঝে গিয়েছে, সাউথব্লকের সঙ্গে কূটচালের সঙ্গে কোনওভাবেই পাল্লা দেওয়া যাবে না। কারণ, সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে যিনি রয়েছেন, তিনি ধুরন্ধর। কারণ, তিনি আগে ছিলে ভারতের গুপ্তচর সংস্থার শীর্ষপদে। এই গৌড়চন্দ্রিকা রচনার কারণ রয়েছে।
ভারত শুরু থেকে বলে এসেছে, বাংলাদেশে নির্বাচন হতে হবে অবাধ ও সুষ্ঠ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি। নো ভোট আন্ডার ইউনূস রেজিম। কারণ সাউথব্লক মনে করে, তদারকি সরকার তত্ত্বাধানে ভোট আসলে প্রহসনের নামান্তর। এবার বাংলাদেশ সেনা এবং পুলিশও বলছে, নির্বাচন হতে হবে অবাধ ও সুষ্ঠ। গত ৭ নভেম্বর সেনা প্রধান ওয়াকার বাহিনীর জরুরী বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠকে ছিল কোর কমিটির সব সদস্য। সেখানে বেশ কয়েককটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের কথা তদারকি সরকার প্রধানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাহিনী ইউনূস সরকারকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এতোদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে দমনপীড়ন নীতি চালিয়ে এসেছে, সেই নীতিতে এবার দাঁড়ি টানতে চলেছে। বিরেধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারা আর গ্রেফতার করবে না। দ্বিতীয়ত ভোট হতে হবে সুষ্ঠু, অবাধ। সব রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে এই সরকারকে। বোঝাই যাচ্ছে, বাহিনী ইঙ্গিত করছে আওয়ামী লীগকে।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকেও তদারকি সরকারের ওপর ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে। আর ইউনূস সরকার বিষয়টি ঠেলে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের ঘাঁড়ে। বোঝাতে চেয়েছেন, এই বিষয়ে তাঁর কোনও হাত নেই। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সুতরাং, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা তাদেরকেই দিতে হবে।
ইউনূসের সব থেকে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে পুলিশ আর সেনাবাহিনীর সঙ্গে দূরত্ব। পুলিশের একটি মহল তদারকি সরকারের ওপর রীতিমতো চটে রয়েছে। আর সেনাবাহিনী তার আগে থেকে চটে চট্টরাজ হয়ে গিয়েছে। বাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সেই চটে যাওয়ার ফসল। সোমবার থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ কর্মসূচি। অনেকেই নিশ্চিত ছিল তদারকি সরকারের পুলিশ কঠোর হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে। আর আসিফ মাহমুদ সজী ভুঁইয়ার মিলিশিয়া বাহিনী যখন আছে, তখন আর কীসের চিন্তা। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখলাম।
দেখলাম আওয়ামী লীগকে কার্যত খোলা মাঠ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নানা প্রান্ত থেকে এসেছে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগের খবর। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করেছিল। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সোমবারের হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত ছিল, তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এমনকী স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী জানিয়েছে, কাউকে রেয়াত করা হবে না। কিন্ত তিনি তো আর মাঠে নেমে সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করবেন না। যা করার করবে তাঁর পুলিশ। এই অবস্থায় সেনাবাহিনী আবার ভারতের সঙ্গে অদৃশ্যভাবে হাত মিলিয়ে বলতে শুরু করেছে ভোট হতে হবে সুষ্ঠু, অবাধ। সব রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে এই সরকারকে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post