সোমবার থেকে আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচি চারদিনের। প্রথম দিনেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল বাংলাদেশ। হয়েছে বোমাবাজি। বাসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরর গুলিতে একজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। আর ঠিক তার আগের দিন ইউনূসের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সেনাবাহিনী আগের মতই মাঠে থাকবে। মাঠ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।
এই বক্তব্য যে একেবারে অসত্য তার প্রমাণ ৫ নভেম্বর বুধবার সেনানিবাসের মেসে মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেনের বক্তব্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে মোতায়েন করা সেনাবাহিনীর অর্ধেক সদস্যকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের তরফে তাঁর কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রত্যাহারের বিষয়ে আমরা চিঠি পেয়েছি… এবং সে অনুযায়ী, আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব’। তার আগের দিন মঙ্গলবার ৪ নভেম্বর সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে বিশ্রাম ও নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য বুধবার ৫ নভেম্বর থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে।
আর মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবারের প্রস্তাবিত লকডাউন কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে সরকার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সতর্কতা হিসেবে বাসে যাতে কেউ আগুন লাগাতে না পারে, তার জন্য রাস্তার ধারে কিছুদিনের জন্য পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হবে। লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল, মেট্রোরেল ও রেলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে যাতে কোনও সন্ত্রাসী বাংলাদেশ প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য বিজেবিকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই দিনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তরফ থেকে জরুরী সাংবাদিক সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে থাকবেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার শেখ মহম্মদ সাজ্জাত আলি।
তিনি ইতিমধ্যে বাহিনীর জন্য কিছু নির্দেশ পাঠিয়েছেন। সেই নির্দেশ বেশ কড়া। সেই নির্দেশের মধ্যে রয়েছে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও পুলিশকর্মী ব্যবহার করতে পারবেন না মোবাইল ফোন। কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে বাহিনী নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কয়েক ডজন সহকারী কমিশনারকে বদলি করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং বিচারকদের ভবনের সামনে সব ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আমরা আলোচনা করি জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীকে নিয়ে।
আসলে তিনি তো বটেই, এমনকী তাঁর সরকারও আওয়ামী লীগের চারদিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একটা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। কারণ, সেনাবাহিনী তাঁর পাশে নেই। পুলিশের একাংশ এই সরকারের ওপর রীতিমতো চটে রয়েছে। তারা কার্যত আওয়ালীগকে খোলা মাঠ ছেড়ে দিয়েছে। গত ১০ নভেম্বর আর এ বছরের ১০ নভেম্বরের মধ্যে যে একটা ফারাক রয়েছে। সেই ফারাক সবার চোখে ধরা পড়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যতই বলুক যে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা যে কিছুই করতে পারবে না, তার একটা নমুনা সোমবার দেশবাসী দেখেছে। আর ১৩ নভেম্বর দেখতে চলেছে জনবিস্ফোরণ।












Discussion about this post