ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে ফ্রম ফ্রাইং প্যান টু ফায়ার। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন সেরকমই।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণা করবে। আওয়ামী লীগ সে কথা মাথায় রেখে চারদিনের একটি কর্মসূচি নিয়েছে। সোমবার ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সেই বিক্ষোভ কর্মসূচি। প্রথম দিনেই বাংলাদেশ হয়ে উঠল রণক্ষেত্রে। তদারকি সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার গড়া মিলিশিয়া বাহিনীকে নামানো হয়। কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
এই মিলিশিয়া বাহিনীকে নটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। নটি সেক্টর হল রামনা, মোতিঝিল, ওয়ারি, লালবাগ, তেজগাঁও, গুলশন, মীরপুর এবং উত্তরা। এই নটি সেক্টরের ৪৯টি পুলিশ স্টেশনে এই মিলিশিয়া বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যেক থানা এলাকায় এক প্লাটুন করে বাহিনী রাখা হয়েছে। সেই বাহিনী নামিয়েও কোনও লাভ হয়নি। সোমবার সকাল থেকেই বাংলাদেশ ছিল তপ্ত। সময় যত গড়িয়েছে নানা প্রান্ত থেকে পাওয়া গিয়েছে হিংসাত্মক ঘটনার খবর।
ঢাকার মীরপুরে মহম্মদ ইউনূসের গ্রামীন ব্যাংকের সামনে একাধিক বোমা বিস্ফারণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই বিস্ফোরণের খবর দিতে গিয়ে জানায়, ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা বাইকে করে এসে ব্যাংকের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালায়। সকালেও হয়েছে হামলা। তদারকি সরকারের উপদেষ্টা ফারিদা আখতারের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সামনে মুড়িমুড়কির তো বোমাবাজি হয়েছে। পুলিশ কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথের মতো দাঁড়িয়ে ছিল।
বোমা বিস্ফারণের ঘটনা ঘটেছে একটি হাসপাতালের সামনে, সোমবার সাত সকালে। বোমাবাজির এক ঘণ্টা বাদে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা এক ব্যক্তিকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে মারে। মৃতের নাম তারিক সইফ মামুন। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামুন নানা অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিল। বাংলাদেশের কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের তালিকায় নাম ছিল তাঁর।
হামলার খবর এসেছে রাজধানী ঢাকা থেকেও। রাজধানী যাত্রাবাড়িতে দুটি এবং উত্তরায় একটি বাসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি হয়েছে সোমবার রাতেও। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় পরিত্যক্ত একটি গাড়িতে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম মঙ্গলবা জানিয়েছেন, সোমবার রাত পৌনে একটা নাগাদ যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে রাজধানী পরিবহনের একটি বাস এবং রাত দুটো নাগাদ যাত্রাবাড়ীর কাজলা টোলপ্লাজার কাছে রাইদা পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের খবর আসে। মঙ্গলবার ভোর চারটে নাগাদ উত্তরা জনপথ মোড়ে ওই একই পরিবহন সংস্থার বাসে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দেয়। যে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলি ফাঁকা ছিল। রাখা হয়েছিল পার্কিন সাইডে।
আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচির আগে দিনে ও রাতে ঢাকায় বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়া এবং একাধিক জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীতে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তিনটি বাস। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে মোট ১০টি জায়গা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নজরক্যামেরার ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। আগামী ১৩ নভেম্বর এর থেকে বড় কিছু ঘটতে পারে বলে গোয়েন্দাদের তরফে পুলিশের কাছে বিশেষ রিপোর্ট গিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের আওয়ামী লীগের কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে পুলিশ নিরাপত্তা আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post