আরও একবার বাহিনীর মুখোমুখি হলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজজামান। যে পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান তাঁর বাহিনীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন, সেই সময়টা কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সকলেই জেনে গিয়েছি যে আগামী ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণার তারিখ জানাবে। অপরদিকে আওয়ামী লীগের চারদিনের কর্মসূচি সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। এই দুইয়ের সন্ধিক্ষণে সেনাপ্রধান ওয়াকার যশোর সেনানিবাসে সিগন্যাল অ্যান্ড স্কুল ( এসটিঅ্যান্ড এস) এ কোর অব সিগন্যালসের বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সেনাবাহিনী প্রধান বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত কোর অব সিগন্যালসের অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তার উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন তিনি। তাঁর এই ভাষণ আরও একটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
আমরা জানি যে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বাহিনীর কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তাদের বিচার চলছে। এই নিয়ে বাহিনীর মধ্যে তৈরি হয়েছে চাপা ক্ষোভ। এদিনের ভাষণ সেই ক্ষোভকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করার একটা প্রয়াসও বলা যেতে পারে।
সোমবারের ওয়াকারের ভাষণ বলা যেতে পারে বাহিনীর জন্য এক সতর্কবার্তা। দুটি বিষয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বলেছন, জাতিয় এবং আন্তর্জাতিকস্তরের একটি শক্তি এই অঞ্চলে ‘conflict’ বজায় রাখতে চায়। দ্বিতীয় বিষয়টি হল, তিনি বলেছেন, একটি দেশ বাংলাদেশের করিডোর ব্যবহার করে চিন এবং ভারতের ওপর নজরজদারি করতে চায়। যদিও তিনি সরাসরি সেই দেশের নাম উল্লেখ করেননি। অনুমান করা যেতে পারে, সেনাপ্রধান ওয়াকারের ইঙ্গিত আমেরিকার দিকে। তিনি এও বলেছেন, বাংলাদেশ সেনা সংবিধান মেনেই কাজ করবে। সংবিধানের প্রতি সেনাবাহিনী দায়বদ্ধ। যে কোনও মূল্যে বাহিনী সংবিধানের গরিমাকে রক্ষা করবে।
সেনাপ্রধান ওয়াকার সেখানে পৌঁছলে তাঁকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। পরে তিনি অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য ভাষণ দেন। সেনাপ্রধান দেশ ও জাতি গঠনে কোর অব সিগন্যালসের গৌরবজ্জল ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের সেবায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞের প্রশংসা করেন। সেনাপ্রধান ওয়াকার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী কোর অব সিগন্যালসের সদস্যসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। দেশ ও জাতি গঠনে কোর অব সিগন্যালসের গৌরবজ্জ্বল ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেশমাতৃকার সেবায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সততা, সত্যনিষ্ঠা কর্তব্যবোধে ব্রত হয়ে উন্নয়নমূলক কাজকর্মের মাধ্যমে দেশ গঠনে কোর অব সিগন্যালসের প্রশংসনীয় ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ৯ নভেম্বর এসটিঅ্যান্ড এসে কোর অব সিগন্যালসের একাদশতম কর্নেল কম্যান্ড্যান্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ। যশোর সেনানিবাসের শহীদ আব্দুল হামিদ প্যারেড গ্রাউন্ডে যথাযোগ্য সামরিক ঐতিহ্য ও রীতি মেনে কোর অব সিগন্যালসের কর্নের কম্যান্ড্যান্ট অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। নবনিযুক্ত কর্নেল কম্যান্ড্যান্টকে জেষ্ঠতম অফিসার এবং জেষ্ঠতম মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার কর্নেল কম্যান্ড্যান্ট ব্যাজ পরিয়ে দেন। দেওয়া হয় গার্ড অব অনার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post