সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের পর গোটা বিশ্বজুড়েই নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। তবে পাকিস্তান, বাংলাদেশের মতো কিছু দেশ সেই পথে হাঁটেনি। দিল্লি বিস্ফোরণে কোনও সংগঠন এখনও পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি, আবার ভারত সরকারের তরফে বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও এ ব্যাপারে কিছু খোলসা করে বলেনি। শুধু জানানো হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে যখন ইসলামাবাদে একটি একটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ হল, তার কয়েক মিনিটের পরই পাকিস্তান এর দায় ভারতের ঘাড়ে ঠেলে দিয়ে একের পর এক বিবৃতি দিল। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ থেকে শুরু করে সে দেশের একাধিক মন্ত্রী ভারতকেই ইসলামাবাদে নাশকতার ঘটনার জন্য ভারতেই দায়ি করেছেন। অন্যদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম যখন দিল্লি হামলার ঘটনার পিছনে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির যোগ খুঁজছে, তখন ঢাকা আগ বাড়িয়ে বিবৃতি দিতে ভুললো না। অনেকটা বাংলায় সেই প্রবাদের মতো, “ঠাকুর ঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি!”
ঘটনাচক্রে দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের পরদিনই পাকিস্তানে দুটি বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। একটি রাজধানী ইসলামাবাদের জেলা আদালতের সামনে বোমা বিস্ফোরণ, তাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর দ্বিতীয়টি আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পাক সেনার কনভয়ে হামলা। এই ঘটনায় ১৬ জন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শারিফ অভিযোগ করেছেন, ভারতই ষড়যন্ত্র করে পাকিস্তানের দুই জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পাকিস্তান সরকারের সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস অব পাকিস্তানে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানকে অস্থির করার জন্য এটা ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অংশ এটি’। বিশ্লেষকদের দাবি, ভারত যেখানে সরকারিভাবে দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি। শুধু বলা হয়েছে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখানে পাকিস্তান কিভাবে তদন্ত বা কোনও সূত্র ছাড়াই ভারতের ঘারে দোষ চাপিয়ে দিল?
দিল্লিতে যে ঘটনা ঘটেছে, তা কোনও সন্ত্রাসী হামলা নয় বলেই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ঘটনার প্রকৃতি এবং তদন্তের অভিমুখ দেখে তাঁদের বক্তব্য, বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল হতে দেখেই লালকেল্লার সামনে তড়িঘড়ি বিস্ফোরণ ঘটানো হতে পারে। কারণ, তার আগেই একাধিক জায়গায় হানা দিয়ে সন্ত্রাসী মডিউলটিকে প্রায় ধরে নিয়েছিল ভারতের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি। উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৩০০০ কিলোগ্রাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো আরডিএক্স তৈরি মশলা, একে ৪৭ রাইফেল ও অন্যান্য রাসায়নিক। অন্যান্য জায়গায় আরও বিস্ফোরক লুকোনো থাকতে পারে বলে অনুমান করছিলেন তদন্তকারীরা। ফলে ভয়েই এই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এই ঘটনার পিছনে যে জইশ-ই-মহম্মদের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের হাত রয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি। তাঁদের এই নাশকতার পরিকল্পনা যে পাকিস্তানে বসেই হয়েছে, সেটাও কার্যত নিশ্চিত। যদিও ভারত সরকারিভাবে এখনও কিছু বলেনি।
যদিও দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। আসলে এই জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-এ-তৈবার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অতি সক্রিয়। বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের মাখামাখি সম্পর্ক, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের বাংলাদেশে অতি সক্রিয়তা এবং লস্কর প্রধান হাফিজ সঈদের ঘনিষ্টদের বাংলাদেশের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রচার চালানোর মতো ঘটনা নিয়েও নয়া দিল্লি চিন্তিত। বাংলাদেশ থেকে বারংবার শিলিগুড়ি করিডোর এবং সেভেন সিস্টার্স নিয়ে হুমকিও চিন্তায় রেখেছে নয়া দিল্লিকে। এই আবহেই ভারতে নতুন করে জঙ্গি মডিউলগুলি এবং স্লিপার সেলগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠা একটা যোগসূত্র তৈরি করে বৈকি। ফলে দিল্লি হানার পর ভারত যদি আবারও অপারেশন সিঁদূর পরিচালনা করে তবে এবার শুধু পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশও টার্গেট হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেটাই ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে। কিন্তু দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম যেসব সংবাদ প্রকাশ করছে, তা ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যা–ই কিছু ঘটুক না কেন, ভারতের গণমাধ্যম দোষ চাপানোর চেষ্টা করে থাকে। এমন কথা বিশ্বাসের কোনো কারণ নাই। কোনো বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এগুলো বিশ্বাস করবে না। ব্যাপারটা ঠিক এমন, ঠাকুর ঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি। যেখনে সরকারি স্তরে ভারত কিছু বলেনি, তাতেই প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে ঢাকা। এটা বেশ রহস্যজনক।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post