সোমবার সন্ধ্য়ায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি। ঘটনাটি ঘটেছিল দিল্লির লালকেল্লার মেট্রো স্টেশনের সামনে। এখনও পর্যন্ত ১২টি তাজা প্রাণ ঝড়ে গিয়েছে ওই বিস্ফোরণে। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তারপর থেকেই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এমনকি এবার পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশ যোগও সামনে আসছে। যত সময় যাচ্ছে, দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে নতুন নতুন তথ্য হাতে আসছে এনআইএ তদন্তকারীদের। দিল্লির লালকেল্লা এলাকায় বিস্ফোরণে কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল, মূলত তা নিয়েই চলছে প্রাথমিক তদন্ত। তবে বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দুই ধরনের বিস্ফোরকের নমুনা পাওয়া গিয়েছে ঘটনাস্থল থেকে। পাশাপাশি দু’টি তাজা কার্তুজও উদ্ধার হয়েছে সেখান থেকে। সব নমুনাই কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। একটি একটি অ্যামেনিয়াম নাইট্রেটের মতো কোনও রায়াসনিক হতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। তবে অন্যটির প্রকৃতি বোঝা যাচ্ছে না। এখানেই সামনে আসছে বাংলাদেশের নাম। তদন্তকারীদের অনুমান, এই বিস্ফোরক ও রাসায়নিক বাংলাদেশ দিয়েই ভারতে ঢুকতে পারে। এর যোগসূত্র খুঁজছে তদন্তকারীরা।
যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের জেরা করে জানা যাচ্ছে, লাগাতার হামলার ছক কষা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ব্যার্থ করতে সক্ষম হয়েছে গোয়েন্দারা। তদন্তকারীরা প্রমাণ পেয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া দুই ডাক্তার আদিল ও মুজাম্মিল দু’জনই এবছরের গোড়ায় তুরস্কে গিয়েছিল। এই ঘটনায় কাশ্মীরের এক মৌলবীকে গ্রেফতার করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। তাঁকে জেরা করেই উঠে আসছে ভয়ানক কিছু তথ্য। আবার তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে ধৃত দুই মহিলা চিকিৎসকের চ্যাট হিস্ট্রি। সেখানে থেকে লস্করের মহিলা ব্রিগেডের হাত থাকার তথ্য উঠে আসছে। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের ফরিদাবাদ থেকে ২৯০০ কিলোগ্রাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার হয়েছিল। অনুমান করা হচ্ছে, আরও ৩৫০ কেজি মতো এই মারাত্মক বিস্ফোরক দেশের অন্যন্য স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। যা উদ্ধার করতে একাধিক জায়গায় হানা দিচ্ছে এনআইএ গোয়েন্দারা। আরও একটি রহস্যময় রাসায়নিকের অস্তিত্ব জানতে পারছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই বিস্ফোরক বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার করা হয়েছে। সেই লিঙ্কও খুঁজে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতে নাকাতল্লাশি চলাকালীনই ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে আসা বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি আটক করল বীরভূম পুলিশ। তার থেকে উদ্ধার প্রায় ২০ হাজার জিলেটিন স্টিক। বিপুল এই বিস্ফোরক কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ধৃত ওই ব্যক্তিকে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ধর্ম প্রচারের আড়ালে জইশ এবং লস্করের বড় বড় জঙ্গি নেতারা একাধিকবার বাংলাদেশে ঘুরে গিয়েছেন। সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, যেহেতু পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে এখন ভারতে প্রবেশ দুষ্কর হচ্ছে তাই বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করে জঙ্গি ও বিস্ফোরক ভারতে পাচার করছে পাকিস্তান। লস্কর-এ-তৈবার এক শীর্ষ প্রচারক বাংলাদেশের ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রচার করেছিলেন। সেই সময়ই এই বিস্ফোরক ভারতে প্রবেশ করানো হল কিনা সেটাও দেখা হচ্ছে। যদিও দিল্লিতে বিস্ফোরণের পরই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের যোগসুত্র খুঁজতে শুরু করতেই ঢাকার তরফে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, এটা একেবারেই ভিত্তিহীন। কিন্তু এখন ধীরে অনেক কিছুই সামনে আসছে তদন্তের অগ্রগতির নিরীখে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post