বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা দখল করলে বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিশোধের রাজনীতি আর করবে না বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার এক সভায় এমনই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেভাবে মামলা করেছে, আমরা সেভাবে মামলা করতে চাই না। যদি মামলা হয়ে থাকে, তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি সমস্ত মামলা তুলে নেওয়া হবে’। মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মির্জা ফকরুল। তাঁর বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হতেই বাংলাদেশের রাজনীতি তোলপাড় হতে শুরু করে। অনেকেই বলতে শুরু করেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপর প্রভাব খাটিয়ে ‘প্রতিশোধের রাজনীতি’ করার জন্য সরাসরি জামায়াতে ইসলামির দিকেই আঙুল তুলেছেন মির্জা ফকরুল। যদিও আওয়ামী লীগকেও ঠুকেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল জামাত শিবিরই। কারণ, ইদানিং জামাতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূল আলচ্য বিষয়। জামাত পিআর-গণভোট চায়। আর বিএনপি তা মানতে নারাজ, তাঁরা দ্রুত জাতীয় নির্বাচন চায়। যা নিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি এখন আমনা-সামনা হয়েছে। কিন্তু আচমকাই মোড় ঘুরে যায় পরিস্থিতি। মঙ্গলবার রাতেই মির্জা ফকরুলের মন্তব্য নিয়ে পাল্টা বিবৃতি জারি করে বিএনপি।
বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মো. তাইফুল ইসলামের স্বাক্ষর করা এক বিবৃতি দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফকরুল আলমগীর। তাতে বিএনপির মহাসচিব দাবি করেছেন, ‘আজ ১১ নভেম্বর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় দেওয়া আমার একটি বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। মির্জা ফকরুলের আরও দাবি, আমি আমার বক্তব্যে বলেছি যে, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চাই না। আওয়ামী লীগের মতো হয়রানিমূলক মামলা করতে চাই না। আমি আমার দেওয়া বক্তব্যে আরও বলেছি যে, এই ইউনিয়নে হয়রানিমূলক কোনো মামলা হলে, আমরা তুলে নিব। কিন্তু দেশব্যাপী হয়রানিমূলক মামলা দায়ের কিংবা মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য প্রদান করিনি। এমনকি তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভুল বক্তব্যের বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনগণকে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানেরর পরপর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম হয়তো সেই কথাই বলতে চেয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিএনপি কিন্তু আওয়ামী লীগের মতোই প্রাচীন এক রাজনৈতিক দল। তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঝুলি জামাতের থেকেও বেশি। জামাত প্রধানত রাজনৈতিক দল ছিল না। অনেক পরে তাঁরা রাজনীতির আঙ্গিনায় প্রবেশ করেছে। তাই বিএনপি জানে, নির্বাচন পরবর্তী স্থায়ী সরকারে এলে তাঁদের অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে হবে, যা এখন মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে সামলাতে হয় না। নির্বাচিত সরকারের জবাবদিহিতা অনেক বেশি। তাই বরাবরই তাঁরা আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরব হয়েছে। এমনকি কোনও রাজনৈতিক দলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নিয়েও তাঁরা নরম মনোভাব দেখিয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত জামাতকেই মূলত নিশানা করতে চাইছে বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেছেন, ‘‘জামায়াতে-সহ কয়েকটি দল জোর-জবরদস্তি করে তাদের দাবি মানাতে চায়। তারা পিআর-গণভোট চায়। এসব আমরা মেনে নেব না’’। এই ‘কয়েকটি দল’ বলতে জামাতের সহযোগী সাতটি সংগঠন ছাড়াও ছাত্রদের দল এনসিপিকেও বিদ্ধ করেছেন বিএনপি মহাসচিব। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, মির্জা ফকরুলের মতো পোড় খাওয়া দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ, সকালে একটি মন্তব্য করে রাতে পাল্টে ফেলছেন, এটা খুবই আশ্চর্যের। আসলে তিনি মুখ ফস্কে সত্যিটাই বলে ফেলেছিলেন। নেত্রী খালেদা জিয়ার সুরেই তা বলেছিলেন। কিন্তু এই মুহূর্তে এই মন্তব্য করায় চাপে পড়ে গিয়েছিল দল। তাই পাল্টা বিবৃতি দিয়ে আপাতত গণমাধ্যমের ঘাড়ে দোষ চাপালেন। আসলে বিএনপি মূল স্রোতের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গেই লড়তে চায়, জামাত বা এনসিপির সঙ্গে নয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post