অবশেষে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ জারি করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। বৃহস্পতিবার তিনি এ আদেশ জারি করেন. অর্থাৎ আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে নানা জল্পনা ও কল্পনার অবসান ঘটল রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদ আদেশে স্বাক্ষর করার পর। যদিও এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ অনুমোদন হয়ে যায়। এরপর বৃহস্পতিবারই জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই আদেশের বিষয়বস্তু ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির তথ্য তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। মূলত চারটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটের দিন এই চার বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে জনগণ নিজেদের মতামত জানাবেন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে নতুন করে আশঙ্কার কালো মেঘ তৈরি করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদের আদেশে স্বাক্ষর করার পরই একটা প্রশ্ন দানা বাধতে শুরু করে। সেটা হল, রাষ্ট্রপতি কেন ইউনূসের সব অর্ডিন্যান্স বা অন্যান্য আদেশে স্বাক্ষর করে দিচ্ছেন বিনা বাধায়। কেউ কেউ বলছেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নিজের পদ বাঁচাতে মরিয়া। কারণ, তাঁকে অপসারণের বহু চেষ্টা হয়েছে। এমনকি তাঁকে প্রকাশ্যে অপমান করেও পদত্যাগ করার কৌশল নেওয়া হয়েছিল অনেকবার। কিন্তু তিনি এখনও পর্যন্ত ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কোনও বিরোধ সৃষ্টি করার চেষ্টাও করেননি। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা দারণ একটি সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কেবলমাত্র দুটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান টিকে আছে। একটি রাষ্ট্রপতি নিজে, অন্যটি সেনাবাহিনীর প্রধান। আর এই দুটি সরানোর বহু চেষ্টা হয়েছে। এমনকি বারবার বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধান কবরে পাঠিয়ে নতুন সংবিধান বা জুলাই সনদই হবে নতুন বাংলাদেশের প্রতীক। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা, জামাত শিবিরের থেকেই এই দাবি বেশি উঠেছে বিগত দেড় বছরে। এখন এনসিপিও একই দাবি করছে। কয়েকদিন আগেই এনসিপির অন্যতম সংগঠন হাসনাত আবদুল্লাহ প্রকাশ্যেই দাবি করেছিলেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যদি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে তাহলে আমাদের বুড়িগঙ্গায় ডুবে মরা উচিৎ। মজার বিষয়, এই এনসিপিই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি, আর রাষ্ট্রপতিই এই আদেশে স্বাক্ষর করলেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সবচেয়ে সঠিক কাজটাই করলেন। এতে চাপে পড়ল এনসিপি, জামাত। আর একটা বিষয় হল, এই দুটি দল এবার মাঠে নেমে আন্দোলনে নেমে যেতে পারে। তাতে গোলমাল বাঁধার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এই জুলাই সনদের আদেশে স্বাক্ষরের আগে রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবন ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে একাধিক বৈঠক হয়েছে। নানা কূটকাচালি চলেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু একেবারেই নিজের অবস্থানে অণড়। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির বদলে যদি জুলাই সনদে প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষর করতেন, তাহলে পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যেত। তখন এই জামাত, এনসিপি পুরোদমে রাষ্ট্রপতি এবং সেনাপ্রধানের অপসারণ চেয়ে মাঠে নামতো। আর তাঁদের সরিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানও পাল্টে দিতো। যা আটকে দিয়ে এখন হিরোর মর্যাদা পাচ্ছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post