বাংলাদেশের তদারকি সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরসূচি ঢাকা নিশ্চিত করার পর থেকে সবার আগ্রহ ছিল ডোভালের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঘিরে। ঢাকার তরফে এই নিয়ে বাঁধা গতের বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। আবার দিল্লির তরফে দেওয়া বিবৃতিও বাঁধা গতের। খলিলুর রহমানের দিল্লি সফর এক প্রকার কূটনৈতিক তলব বলা যেতে পারে। এই সফর এডি়য়ে যাওয়ার কোনও পথ তাঁর সামনে খোলা ছিল না। তিনি যদি না আসতেন, ঢাকা দিল্লিতে তাঁর মতো প্রথম সারির মন্ত্রীকে পাঠাতে বাধ্য থাকত। কারণ, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ। এটা কোনও ছোটখাটো বিষয় নয়। আর খলিলুর রহমান একপ্রকার ডোভালের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান মিটিং করতে বাধ্য হয়েছেন। তার একাধিক কারণ রয়েছে। ইতোমধ্যে এই নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রশ্ন হল ভারতের জেমস বন্ডের সঙ্গে ডোভালের বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে?
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোভালকে খলিলুর রহমান সেই বিতর্কিত, যে বইয়ের প্রচ্ছদে একটি বিতর্কিত মানচিত্র আঁকা ছিল। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে তিনি হাসতে হাসতে প্রশ্ন করেন ইয়ে ক্যায়া হ্যায় (এসব কী?) হোয়াট ডু ইউ মিন টু সে? (আপনারা কী বোঝাতে চাইছেন?)। সূত্রটি জানিয়েছে, বৈঠকে খলিলুর রহমান হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সেই প্রসঙ্গে জেমন্স বন্ডের জবাব ছিল ওখানে রায় হয়েছে সেটা কাগজে দেখেছি। সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের চাইবেন, তখন আমরা সেই সব কাগজপত্র খতিয়ে দেখব। ডোভাল জানিয়েছেন, কাগজপত্র সাউথব্লকের হাতে আসার পর আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করব (হাম পরখকে দেখেঙ্গে)।
ডোভাল খলিলুরকে জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সে দেশের মাখামাখি সাউথব্লক মোটেই পছন্দ করছে না। গত ১৫ বছরে হাসিনার আমলে যেটা কোনওভাবেই দেখা যায়নি, মাত্র দেড় বছরের মাথায় সেটা ব্যাপক আকারে দেখা গিয়েছে। হাসিনার আমলে বহু জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় জেলে। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে ডোভাল জানিয়েছে, পাক সেনার পাশাপাশি আইএসআইয়ের শীর্ষকর্তাদের বাংলাদেশ সফর ভারতের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করেছে। লস্কর নেতা হাফিজ সইদের এক ঘনিষ্ঠ এই দেড় বছরের মধ্যে দুবার বাংলাদেশ সফর করেছে। ছিলেন উত্তর নবাবগঞ্জ, রংপুর এবং রাজশাহী। খলিলুরকে ডোভাল এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দেশে (বাংলাদেশে) কারা আসবে, সেটা একান্তই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ কেউ বাংলাদেশে যাবে, সেখানে গিয়ে থাকবে, এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আর যা কিছু হচ্ছে সেটা বাংলাদেশ সরকারের জ্ঞাতসারে হচ্ছে।
এই বক্তব্যের একটা ইঙ্গিত – সরকারের সমর্থন বা প্রশ্রয় না থাকলে হাফিজের জঙ্গি সংগঠনের কোনও সদস্য বাংলাদেশে পা রাখতে পারত না। বৈঠকে সীমান্তে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের শাখা গজিয়ে ওঠার প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। খলিলুরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তান সেনার সঙ্গে তাদের দেশের (বাংলাদেশ) সেনার তথ্য বিনিময় বিষয়টিও একেবারেই ইতিবাচক নয়। তাছাড়া পদ্মাপার থেক উস্কানিমূলক কথাবার্তার বিষয়টিকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারত কিন্তু কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে কিছুটা হলেও চাপের মধ্যে ফেলে দিল। বিশেষ করে হাসিনা ইস্যুতে। শুধু মুখের কথা যে দিল্লি চলবে না, খলিলুর রহমানকে সেই বার্তাই দিলেন ডোভাল।












Discussion about this post