ভারতের পূর্ব সীমান্ত ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে,কারণ বাংলাদেশ ক্রমশ পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে। তবে শুধু পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশের বর্তমান মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার চিনের সঙ্গেও হাত মিলিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম করে চলেছে। মুহাম্মদ ইউনূসের লক্ষ্য ভারতের চিকেন নেক নামে খ্যাত অতি সংবেদনশীল এলাকা শিলিগুড়ি করিডোর। সেই সঙ্গে কট্টর মৌলবাদী সংগঠনগুলির “বৃহত্তর বাংলাদেশ” গঠনের স্বপ্নকেও বাস্তাবের রূপ দিতে তৎপর হয়েছে ইউনূস প্রশাসন। সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে যত রাষ্ট্রপ্রধান এসেছেন বা পাকিস্তানের শীর্ষ জেনারেল এসেছেন তাঁদের হাতে একটা ম্যাপের ছবি দেওয়া পুস্তিকা ধরিয়ে ছবি তুলেছেন মুহাম্মদ ইউনূস। ওই ম্যাপটি মূলত “বৃহত্তর বাংলাদেশ”, যাতে ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের সাতটি রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের কিছু অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ম্যাপ নিয়ে ইউনূসের একটি ব্যাখ্যা রয়েছে, তা হল এটি একটি ম্যুরাল চিত্র যা জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা এঁকেছে। কিন্তু কূটনৈতিক পরিভাষায় এই মানচিত্র বা ম্যুরালচিত্রের ব্যাখ্যা অতি মারাত্মক। একজন রাষ্ট্রপ্রধান যখন কোনও বিতর্কিত ম্যাপের ছবি অন্য কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে তুলে দেন বা অন্য কোনও দেশের সামরিক কর্তার হাতে, সেটা গভীর বার্তা বহন করে। ইউনূস সাহেব আবার পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক কর্তার হাতে হাসিমুখে ওই পুস্তিকা তুলে দিলেন। ফলে ভারতের কাছে এটা অবশ্যই হুমকি স্বরূপ। কিন্তু ভারত এই ছবি বা ঘটনা নিয়ে এখনও সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তা বলে দেবে না, সেটা কিন্তু নয়। কারণ, ভারত ভিতরে ভিতরে তৈরি হচ্ছে।
ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এবং দুর্বলতর দিকে নজর দিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া শিলিগুড়ি করিডোর, যা যোগাযোগ, অর্থনীতি এবং সামরিক— তিন দিক থেকেই ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সেই চিকেন’স নেক-এর নিরাপত্তা নিয়ে তাই কোনও ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ ভারত। একদিকে যেমন সৈন্য সমাহার বাড়ানো হচ্ছে, তেমনই ভবিষ্যতের জন্য আরও কিছু উন্নয়নমূলক কাজও সেরে রেখেছে ভারত সরকার। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ভারতীয় সেনা ইতিমধ্যেই চিকেন’স নেক-এর পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের কিছুটা অংশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে রেথেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অন্তত ৪০ কিলোমিটার ঢুকে মাঝেমধ্যেই টহল দিচ্ছে ভারতীয় সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। এই চিকেন’স নেক-এর তিন দিকে তিনটি নতুন গ্যারিসন বা সেনাছাউনি তৈরি করে সেটা চালুও করে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। একটি অসমের ধুবড়িতে, একটি বিহারের কিসেনগঞ্জে এবং একটি পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ায়। আরও যেটা জানা যাচ্ছে সেটা হল, সম্প্রতি শিলিগুড়িতে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠককে পোশাকি ভাষায় বলা হচ্ছে ‘স্টেট সাবসিডারি মাল্টি এজেন্সি সেন্টার’ সংক্ষেপে স্ম্যাক। ভারতীয় সেনা, বায়ুসেনা, সিআইএসএফ, বিএসএফ, এসএসবি, আইটিবিপি, মিলিটারি পুলিশ, আর্মি ইন্টেলিজেন্স, আরপিএফ, রেল পুলিশ, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ-সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। এমনকি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষও ‘স্ম্যাক’ বৈঠকে যোগ দেয়। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, স্থানীয় বিধায়ক, সাংসদ ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সাথেও আলাদা একটা বৈঠক হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ, পুরসভা, পঞ্চায়েতের প্রধানদের সাথেও একটা বৈঠক হয়েছে। এটি একটি রুটিন বৈঠক বলা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনা পরম্পরার প্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন। এর একটাই কারণ, চিন ও পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার হওয়ার সাথে সাথে ভারতের মুরগির গলা বা চিকেন নেকের ঝুঁকি বেড়েছে।
ভারতের কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার একটি পোস্ট এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়। তিনি এক্স হ্যন্ডলে লিখেছিলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব চিকেন নেক অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাঁর দাবি, “প্রথমত, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম গারো পাহাড় পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার উত্তর বাংলাদেশ করিডোর। এখানে যে কোনও বিঘ্ন সমগ্র রংপুর বিভাগকে বাংলাদেশের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, দক্ষিণ ত্রিপুরা থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত মাত্র ২৮ কিলোমিটার চওড়া চট্টগ্রাম করিডোর। ভারতের মুরগির গলার চেয়ে ছোট এই করিডোরটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রাজধানী এবং রাজনৈতিক রাজধানীর মধ্যে একমাত্র সংযোগ। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, ভারতের একটি মুরগির গলা থাকলে, বাংলাদেশের একটি মুরগির দুটি গলা রয়েছে। ভারত যে কোনও সময় বাংলাদেশের দুটি চিকেন নেক বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। ভারতীয় সেনা যে ভাবে এবং যে ধরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাতে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post