ভারতের জন্যই দেশটার জন্ম। এদেশের চাল খেয়ে তাদের বেড়ে ওঠা। আপদে-বিপদে দেশটার পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারত। আর সেই দেশের এক প্রাক্তন সেনাকর্তার মুখে শোনা গেল সেভেন সিস্টার্স দখলের হুমকি। আড়ালে নয়, প্রকাশ্যে গলার শিড়া ফুলিয়ে তিনি বলছেন সেভেন সিস্টার্স যেভাবে হোক দখল করতেই হবে। সাতটা রাষ্ট্র তৈরি করতে হবে। সেভেন সিস্টার্স বাংলাদেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়ো ঝুঁকি।
যে দেশটার ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা নেই, যে দেশটাকে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার, বিশ্বব্যাংক মুখের ওপর বলে দিয়েছে তারা আর টাকা দেবে না। বাংলাদেশে নতুন যে সরকার আসবে, সেই সরকারের সঙ্গে এই নিয়ে নতুন করে তারা কথা বলবে। কার্যত বাংলাদেশ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। কারণ, তারা জেনে গিয়েছে ভারতীয় সেনা আর তাদের বাড়াবাড়ি সহ্য করবে না। তারা শুধু মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রশ্ন হল সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বাংলাদেশে কার এমন দুঃসাহস হল? কে গলার শিরা ফুলিয়ে জোর গলায় বলছেন সেভেন সিস্টার্স দখল করে সাতটি রাষ্ট্র তৈরি করতে হবে। ?
এই হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনার প্রাক্তন কর্নেল আবদুল হক। তিনি বলেছেন, ‘তারা (ভারত) আমাদের দেশ দখল করতে চায়। আমরা কেন বসে থাকব? ড. ইউনূস বলেছেন না সেভেন সিস্টারের কথা। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা এই সেভেন সিস্টারকে বিচ্ছিন্ন করতে পারব, সাতটা আলাদা রাষ্ট্র কায়েম করতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। সাতটা রাষ্ট্র কায়েম করতে হবে এবং সেই জন্য লোকেরা বসে আছে। আমরা তাদেরকে সাহায্য করতে পারছি না। এটা আমি গোপনে বলছি না। প্রকাশ্যে বলছি। ’ ইউনূসের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা – ‘আপনার সারভাইবালের জন্য বলছি। তারা যদি আমাদের দেশ দখল করতে পারে আমরা কেন তাদের নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে পারব না। অনেকে বলে প্রতিবেশী বদলানো যায় না। আমি বলি প্রতিবেশী বদলানো যায় না ঠিক। কিন্তু নতুন প্রতিবেশী তৈরি করা যায়। ’
এই হুমকি মনে করায় বঙ্গের এক নেতার কথা। তিনি রেজ্জাক মোল্লা। বাংলার রাজনীতিতে যাঁর পরিচয় ‘চাষার ব্যাটা’। তিনি একসময় বুদ্ধদেব ভটাচার্যের মন্ত্রিসভাতেও ছিলেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে কটাক্ষ করতে গিয়ে রেজ্জাক মোল্লা একবার বলেছিলেন, ‘হেলে ধরতে পারে না, কেউটে ধরতে এসেছে। ’ এই নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে কম চর্চা হয়নি। তা নিয়ে নতুন করে আর চর্চার দরকার নেই। তবে বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনাকর্তা সেভেন সিস্টার্স নিয়ে যা বললেন, তাতে রেজ্জাক মোল্লার সেই বিখ্যাত মন্তব্য স্মরণ করতেই হল। আর তিনি কেন, সেভেন সিস্টার্স নিয়ে তো তদারকি সরকারের তরফেও হুমকি এসেছে। হুমকি দিয়েছেন খোদ তদারকি সরকার প্রধান এবং সেটাও আবার চিন থেকে। বিষয়টা হুমকি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে। উত্তরপাড়া একবার সেভেন সিস্টার্স দখল করার চেষ্টা করে দেখুক। ভারতীয় সেনার একটা মারও বাইরে পড়বে না।
আরও যে লজ্জাজনক। তা হল প্রাক্তন কর্নেলের উচ্চারণ। আবদুল হক একজন সেনাকর্তা। সুতরাং, তাঁর পড়াশোনা বা জ্ঞানচর্চা নিয়ে কোনও তর্ক না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অথচ তিনি ‘সেভেন সিস্টার্স’ বলার পরিবর্তে উচ্চারণ করছেন ‘সেভেন সিস্টার’। কিন্তু ভারতে তো সেভেন সিস্টার নেই। রয়েছে সেভেন সিস্টার্স। তাহলে কী বাংলাদেশ সেনার প্রাক্তন কর্নেল অন্য কোনও দেশকে বোঝাতে চাইলেন?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post