ভাঙা রেকর্ডটা আরও এবার বেজে উঠল পদ্মাপারে। ভাঙা রেকর্ডের গানটাও নিশ্চই সকলের মনে আছে। গান সেভেন সিস্টার্স দখল করা নিয়ে। সেটা না হলে ভারত তাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না। বাংলাদেশ তো গত জুলাই অগাস্টের পর থেকে অশান্ত। রাজনৈতিক দিক থেকে যেমন অশান্ত, অশান্ত অর্থনৈতিকদিক থেকেও। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার, বিশ্বব্যাংক তো তাদের মুখের ওপর বলে দিয়েছে তারা আর বাংলাদেশকে এক নয়া পয়সা দেবে না। নতুন সরকার এলে তাদের সঙ্গে চুক্তির শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা করবে।
এদিকে, আমেরিকা যাও বা আগে তাদের পাশে ছিল, এখন তারাও পাশে নেই। তার কারণ রয়েছে। বাংলাদেশে পালাবদল তাদের মস্তিষ্ক প্রসূত। তারা তাদের স্বার্থের জন্য মসনদে ইউনূসকে বসিয়েছিল। ইউনূস তাদের সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি। উলটে গত ১৪-১৫ মাস ধরে তদারকি সরকার প্রধান এবং তাঁর বলদ ক্যাবিনেট খালি চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে কীভাবে ভারতকে অশান্ত করে তোলা যায়। আর সাউথব্লক ঠাণ্ডা মাথায় সেই সব চক্রান্ত ভেস্তে দিয়েছে।
ইউনূসের পাশে নেই সেনাবাহিনীর সেই অংশ, যাঁরা মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে। পুলিশের একাংশও আর তাঁর পাশে নেই। এই অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে সেভেন সিস্টার্স দখল নিয়ে আসছে একের পর এক হুমকি। ঢাল তরোয়ালহীন নিধিরাম সর্দারের দেশ বলছে না কি তারা ভারতের সঙ্গে লড়াই করে সেভেন সিস্টার্স দখল করেই ছাড়বে। এই নিয়ে বিগত কয়েক মাস ধরে পদ্মাপার থেকে কতবার, কতজন যে হুমকি দিল, তার ইয়ত্তা নেই। এবার কিন্তু হুমকি এসেছে সে দেশের প্রাক্তন এক সেনাকর্তার মুখ থেকে। তিনি একসময় বাংলাদেশ সেনার ব্রিগেডিয়ার ছিলেন। এনার নাম আবদুল্লাহিল আমান আজমি। কী বলছেন ওই সেনাকর্তা?
আবদুল্লাহিল আমান আজমি বাংলাদেশের জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখান থেকে তিনি সেভেন সিস্টার্স দখলের হুমকি দেন। তিনি বলেন,‘ভারত যতদিন টুকরা টুকরা না হয়ে যাবে কেয়ামত পর্যন্ত তারা বাংলাদেশকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন, আমাদের বুদ্ধিজীবী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম…. পানি নিয়ে যারা আমাদের বাধ সৃষ্টি করে….,তারা আমাদের বর্ডারে যেভাবে হত্যা করছে… বাণিজ্য বৈষম্য… এসব তো বাদই দিলাম। যখন শেখ সাহেবের পতন হল, তখন তাদের ভারত ডেকে নিয়েছিল। তাদের ক্যাম্প বানিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে, অস্ত্র দিয়েছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ’
আবদুল্লাহিল আমান আজমিই কিন্তু বাংলাদেশে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর পরামর্শ মেনে ঢাকা কি উত্তরপাড়াকে বলবে – চলে যাও সীমান্তে। ভারতের বিরুদ্ধে গোলাগুলি ছোঁড়া শুরু করে। বাংলাদেশ সেনার অবসরপ্রাপ্ত এই কর্তার হুমকি আর তদারকি সরকারকে দেওয়া তাঁর পরামর্শ শুনে সকলেই হাসবে। আমাদের সেনাবাহিনীর কতটা ক্ষমতা, সেটা পাকিস্তান কিছুদিন আগে টের পেয়েছে। রাজনাথ সিং বলেছিলেন ঘুসকে মারেঙ্গে। আর বাস্তবে সেটাই হয়েছে। কিছুদিন আগে ভারত ব্রহ্মস পরীক্ষা করে। সেটাও গোটা দুনিয়া দেখেছে। এত কিছুর পরেও বাংলাদেশ সেনার অবসরপ্রাপ্ত এই ব্রিগেডিয়ার যে কোন সাহসে বললেন সেভেন সিস্টার্স দখলের কথা, সেটা বোঝাই যাচ্ছে না। তাঁর কথা শুনে এটা মনে হচ্ছে, ওয়াকারবাহিনী সেভেন সিস্টার্স দখল করতে আসবে। আর ভারতীয় সেনা হাসিমুখে তাদের হাতে তুলে দেবে সেভেন সিস্টার্স।












Discussion about this post