বাংলাদেশে ফিরছেন তারেক?
নানা প্রান্ত থেকে তাঁর দেশে ফেরা এবং ভোটে অংশগ্রহণ নিয়ে দলের বেশ কয়েকজন নেতার মুখে বহু কিছু শোনা যাচ্ছে। একেক করে সেগুলি তুলে ধরা যাক।
দলের সিনিয়র যুগ্মসচিব রহুল রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘তারেক রহমান দূরে থেকেও দেশের মানুষের কাছে রয়েছেন। তিনি যথাসময়ে দেশে ফিরে নেতৃত্ব দেবেন। তিনি যখন মনে করবেন, তখনই দেশে ফিরবেন। এতে কোনও বাধা হবে না।’ বিএনপি সবসময় ‘পলিটিক্স অব কমিটমেন্টে’ বিশ্বাসী জানিয়েছে রিজভী বলেন, ‘অতীতে দল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেছে। ভবিষ্যতেও সে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রতিটি বাস্তবায়িত হবে। আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ দেবেন। তাঁর প্রতিশ্রুতির চুল পরিমাণ বিচ্যুতি হবে না। ’
প্রশ্ন উঠছে, তারেক দেশে একান্তই যদি ফিরতে না পারেন, তাহলে তার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে কি না – এই প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরতে চাইলে তাকে ট্র্যাভেল পাশ দেওয়া হবে। দলনেত্রীর বিদেশে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘উনি খুবই অসুস্থ। এই মুহূর্তে বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। একটু উন্নতি হলে, পার্টি (বিএনপি) যদি অনুরোধ করে সরকার সহযোগিতা করবে। প্রয়োজন অনযায়ী সরকারের তরফে যেটুকু করার দরকার সেটুকু অবশ্যই করা হবে। ’ এই প্রসঙ্গে জাহিদুর রহমানের মন্তব্য স্মরণ করা যেতে পারে। তারেকের দেশে ফেরা নিয়ে তিনি বলেন কোনও কোনও মহল থেকে তারেককে নিয়ে গুজব খবর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য, একটা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার সঙ্গে বেশ কয়েকটি বিষয় কিন্তু জড়িয়ে রয়েছে। প্রথমত এটা কোনও ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। এখানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর নিরাপত্তা। জড়িয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক স্থিতি এবং আইনগত জটিলতা।
গত ছ অক্টোবর তারিখ একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরবেন। তাঁর ওই ঘোষণার পর থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা অক্সিজেন পেয়েছিলেন। তারা নিশ্চিত ছিলেন জিয়া-পুত্র দেশে আসছে। নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু সেই উচ্ছাসের ফানুস আচমকাই চুপসে গিয়েছে। প্রশ্ন হল, তারেককে বাদ দিয়েই কেন বিএনপি নির্বাচনে যেতে চাইছে।
দল এখন বুঝে গিয়েছে, ইউনূসের মতলবটা কী? সেই মতলব হল জামাত এবং এই দলের সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিকে একত্রে করে মসনদে টিকে থাকতে। আর সেই অপারেশনে ইউনূস একবার সফল হলে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির চিত্রটাই বদলে যাবে। বিএনপি বা তারেক রহমান, এমনকী ওই দলের কোনও নেতাই নির্বাচন ঠেকাতে চাইছেন না। সে কারণে তারা দ্বিতীয় দফায় তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। দল মনে করছে, নির্বাচন বয়কট করা মানে জামাতকে খোলা মাঠ ছেড়ে দেওয়া। খোলা মাঠ পেয়ে যাবেন তদারকি সরকার প্রধান। লাভবান হবে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী।
এদিকে, এটি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ। এখনও নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছিলেন ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফশিল ঘোষণা হতে পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post