বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিলেত যাত্রার তারিখ বারবার পেছোনো হচ্ছে। প্রথমে ঠিক ছিল গত শুক্রবার রাত বা শনিবার ভোরে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হবে। পরে সেটা পরিবর্তন করে বলা হয়েছিল ৭ ডিসেম্বর। পরে সে তারিখ পিছিয়ে সম্ভাব্য যাত্রার নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে ৯ ডিসেম্বর। এখন জানা যাচ্ছে, এটাও পিছিয়ে যেতে পারে। আসলে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কে ঠিক বলছেন, কে মিথ্য়া বলছেন সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। এক কথায় একটা রহস্যময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আর এরকম পরিবেশই গুজব, রটনা ছড়িয়ে পড়ার জন্য আদর্শ। হচ্ছেও তাই। কেউ বলছেন বেগম জিয়া মারা গিয়েছেন, কেউ বলছেন তাঁর এতটাই খারাপ অবস্থা যে বেড থেকে সরানোই যাবে না। আবার কেউ কেউ দাবি করছেন বেগম জিয়াই নাকি বাংলাদেশের বাইরে যেতে নারাজ। অথচ বেশ কয়েকদিন ধরে ঢাকার ওই হাসপাতাল কোনও মেডিকেল বুলেটিন জারি করেনি। যদিও বেসরকারিভাবে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতাল সূত্রে খবর, বিএনপির চেয়ারপার্সন ওষুধ বা চিকিৎসায় সেভাবে সাড়া দিচ্ছেন না। নানা পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, তাঁর কোনও জটিলতাই কাটেনি, অর্থাৎ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতি কার্যত অধরা। ফলে এই পরিস্থিতিতে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে লন্ডনের দীর্ঘ পথে নিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকির হয়ে যাবে। অন্যদিকে জানা যাচ্ছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য তৈরি মেডিক্যাল বোর্ড রবিবার রাতে জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে চিকিৎসার জন্য লন্ডন নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন যদি মঙ্গলবার প্রস্তুতও হয়ে যায়, তাহলে তাঁকে লন্ডন নিয়ে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার সকালেই ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, এই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি জার্মানির বিমানসংস্থা এফএআই গোষ্ঠীর। এখানেও তৈরি হয়েছে রহস্য। কারণ আগে বলা হচ্ছিল, কাতারের আমীর খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ এয়ার অ্য়াম্বুলেন্স পাঠাচ্ছেন। যদিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা ঢাকায় এসে পৌঁছতে পারেনি। প্রথমে বিএনপি জানিয়েছিল, কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স শনিবারই ঢাকায় পৌঁছোবে এবং রবিবার দলের চেয়ারপার্সনকে নিয়ে তা লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবে। পরে জানানো হয়, কাতারের এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বিকল্প হিসাবে জার্মানি থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে ঢাকায় পাঠাচ্ছে কাতার সরকার। প্রথম আলোর দাবি, ঢাকায় কাতার দূতাবাস এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও আরও একটি সূত্র দাবি করছে, জার্মানির এফএআই রেন্ট-এ-জেট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া করা হচ্ছে। যা জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসি থেকে ঢাকায় আসবে। এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিকেই নাকি প্রথমে ভাড়া করা হয়েছিল, এমনটাও দাবি করেছে ওই সূত্র। নতুন সূচি অনুযায়ী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি নেত্রীকে নিয়ে কেন এত টালবাহানা এবং তথ্যের অপলাপ হচ্ছে? রাজনৈতিক বিশ্লেশকদের মতে, বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছেন না নেত্রী বাংলাদেশ ছাড়ুন। তাঁদের সাথে রয়েছেন বিএনপি নেত্রীর ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। তিনিও আপত্তি জানাচ্ছেন। অপরদিকে, তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান চাইছেন খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যেতে। এ ব্যাপারে লন্ডন থেকে তদারকি করছেন তারেক এবং তাঁর উপদেষ্টারা। যদিও এই মুহূর্তে এখন দুই পুত্রবধূই সংকটাপন্ন খালেদা জিয়ার পাশে রয়েছেন। যদিও প্রাথমিকভাবে বিএনপি ১৮ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছিল যারা ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডন যাবেন। এখন জানা যাচ্ছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে যাওয়া লোকজনের কলেবর ছোট হবে। তালিকায় থাকা বাকি ব্যক্তিরা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যেতে পারেন। ১৩ দিন ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর চিকিৎসার জন্য চিন, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককেও ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হয়েছে। তবে মেডিকেল দল স্পষ্ট করে দিয়েছে, বেগম জিয়া চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া না দিলে তাঁর লন্ডন যাত্রায় গ্রীন সিগন্যাল দেওয়া হবে না। সেটা আগে কেন বলা হল না, এই সহজ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মীরা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post