বছর ঘুরলেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। অন্তত তদারকি সরকারের বয়ান তো সে কথাই বলছে। যদিও ফেব্রুয়ারির কবে নির্বাচন, তা নিয়ে কিন্তু না তদারকি সরকার কিছু বলছে, না বলছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। কথা ছিল, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন ভবন থেকে তফশিল ঘোষণা হবে। ডিসেম্বরে দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখনও নির্বাচন ভবন থেকে তফশিল ঘোষণা নিয়ে টুঁ শব্দ করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করেছে, বাংলাদেশে আদৌ নির্বাচন হবে তো? কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর যদি বা হয়, সে ক্ষেত্রে ইউনূস জামাতের কাঁধে চেপে ভোট বৈতরণী পার করার একটা শেষ চেষ্টা চালাবে। সেটার সম্ভাবনা আরও পরিস্কার হচ্ছে।
বাংলাদেশে ফিরতে চলেছে পিনাকী ভট্টাচার্য এবং ইলিয়াস হোসেন। সূত্রে পাওয়া খবর সে কথাই বলছে। তাছাড়া চলতি বছর মে মাসে পিনাকি ভট্টাচার্য তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছিলেন, যদি দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হয়, তাহলে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পাশে দাঁড়াতে তারা তিনজন একসঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
একই দিনে পিনাকি ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন এবং সাংবাদিক কনক সারোয়ার যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন। পোস্টে তারা বলেন, ‘দুর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজি-বিরোধী; ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ আন্দোলনে সদা সক্রিয়; এবং বাংলাদেশ-বিরোধী ইন্ডিয়ার সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার দলগুলোকে নিয়ে, দেশপ্রেমিক ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তুলুন। পিনাকী এবং ইলিয়াসের দেশে ফেরার নিয়ে সর্বশেষ যে তথ্য উঠে আসছে, তা কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে মোটেই শুভ নয়। পিনাকি ভট্টাচার্য জামাতকে খোলাখুলি সার্টিফিকেট দিয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পিনাকী ভট্টাচার্য নতুন কোনও নাম নয়। যদিও তিনি রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি। অতীতে বাংলাদেশের ভোটেও তাঁকে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে পিনাকী ভট্টাচার্যের যথেষ্ঠ প্রভাব রয়েছে। সে দেশের বহু হেভিওয়েট নেতার ভাষণ মানুষ যতটা আগ্রহের সঙ্গে শুনে থাকে, তার থেকে বেশি আগ্রহে পিনাকী ভট্টাচার্যের বক্তব্য তারা শোনে। সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে ঘটনার রাজনীতি নিয়ে ইলিয়াসের থেকে পিনাকীকে বেশি সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। তরুণ সমাজের কাছে সে কিন্তু হিরো।
তবে পিনাকী ভট্টাচার্য জামাতকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা শুধু বিস্ফোরক নয়, তাঁর মন্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল এবং সুশীল সমাজ রীতিমতো বিস্মিত। এই ব্লগার বলেছেন, ‘জামায়াত শিবির হল সৎ লোক তৈরির কারখানা। ’ পিনাকী জানিয়েছেন, তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখাই বাঞ্ছনীয়। তিনি সততা ও নৈতিকতার পক্ষেই মত দিয়েছেন। আর তিনি এই গুণটি জামায়াত শিবিরের মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে পিনাকী ভট্টাচার্যের আরও একটি মন্তব্যের উল্লেখ করতে হয়। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির যখন বিরাট জয় অর্জন করে, তখন পিনাকী ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া ছিল তিনি এই বিজয়কে তরুণ সমাজের জাগরণ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে দেশের তরুণরা এখন পরিবর্তন চাইছে। তাঁর ওই বক্তব্য সমাজ মাধ্যমে ঝড় তোলে। অনেকে বলতে শুরু করেন ছাত্রশিবিরের এই বিরাট জয়ের পিছনে পিনাকী ভট্টাচার্যের বিরাট অবদান ছিল। কারণ, তাঁর কথা অনেক তরুণ ভোটারকে প্রভাবিত করে।
ইলিয়াস বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের নতুন ধারার প্রতিনিধি। সমাজ মাধ্যমকে ব্যবহার করে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান। অনেকেই তাঁকে জনগণের সাংবাদিক বলে অভিহীত করেছেন। প্রবাসে থাকা পরেও তিনি তদারকি সরকারের দোষ-ত্রুটি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। ধরে নেওয়া যেতে পারে এরা দেশে ফিরলে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি নিয়ে সরব হবেন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির অভিমুখ আগামীদিনে বদলে যেতে পারে। কী হয়, সেটাই এখন দেখার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post