আমাদের প্রধানমন্ত্রী বরাবর বলে এসেছেন তাঁর ছাতির মাপ ৫৬ ইঞ্চি। সেই ৫৬ ইঞ্চির ছাতির পাশে যদি অজিড ডোভাল, এস জয়শঙ্কর, বিক্রম মিস্রী দাঁডি়য়ে যান, তাহলে আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশকেও যে ঘুরিয়ে নাক দেখানো সম্ভব, সেটা আরও একবার সাউথব্লক গোটা দুনিয়াকে দেখিয়ে দিল। কূটনীতির সঙ্গে বিদেশনীতির রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ডনের আমেরিকা তাদের নিরাপত্তা নীতির ক্ষেত্রে বডো ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বলা যেতে পারে, তাদের বাধ্য করা হয়েছে।
আমেরিকা তাদের নতুন নিরাপত্তা নীতি প্রকাশ করেছে। এর শিরোনাম ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’। নতুন নিরাপত্তা নীতিতে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ভারতকে। সূচিপত্রের চার নম্বরের বিষয় রিজিওন। সেই তালিকায় প্রথমে রয়েছে ‘দ্য ওয়েস্টার্ন হেমিসফিয়ার’, আর দ্বিতীয় বিষয় ‘এশিয়া’। এশিয়া বিষয়ের শিরোনাম – ‘উইন দ্য ইকোনমিক ফিউচার, প্রিভেন্ট মিলিটারি কনফ্রন্টটেশন ’।
এই রিপোর্ট নিয়ে আমেরিকায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মার্কিন রাজনৈতিকমহলে এখন চর্চার বিষয় ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি। চর্চার অন্যতম কারণ কিন্তু অবশ্যই বাংলাদেশ। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ওপর ভারতের প্রভাব এবং ওই দেশের ক্ষেত্রে ভারতের আধিপত্যকে বোধহয় আমেরিকা শেষপর্যন্ত সিলমোহর দিয়ে দিল। এই ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে ভারত কাজ করবে। ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’র রিপোর্টে কিন্তু সেই কৌশলের কথাই বলছে।
‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’ প্রকাশিত হয় গত শুক্রবার। সেখানে চিনের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং তাইওয়ান দখল করা থেকে চিনকে বিরত থাকার পরামর্শের কথা বলা হয়েছে। নতুন নথিতে চিনের ওপর নজর দেওয়া হয়নি। নজর দেওয়া হয়েছে ভারতের ওপর। এমনকী বেইজিংয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। পরিবর্তে মার্কিন প্রশাসন হস্তক্ষেপ বিরোধী নীতির ওপর জোর দিয়েছে। এটি বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রতি ট্রাম্পের অনীহার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীর মৌলিক একক হল জাতি-রাষ্ট্র এবং ভবিষ্যতেও জাতি রাষ্ট্র হিসেবে থাকবে।’
‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’-তে ভারতের প্রতি আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গী কেমন, তার উল্লেখ করা দরকার। বলা হচ্ছে, ‘উই মাস্ট কন্টিনিউট টু ইম্প্রুভ কমার্সিয়াল (অ্যান্ড আদার) রিলেশনস উইথ ইন্ডিয়া টু এনকারেজ নিউ দিল্লি টু কন্ট্রিবিউট টু ইন্দো প্যাসেফিক সিকিউরিটি, ইনক্লুডিং থ্রু কন্টিনিউড কোয়াড্রিল্যাটারাল কো-অপারেশন উইথ অস্ট্রেলিয়া, জাপান অ্যান্ড ইউনাইটেড স্টেটস।’ বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ‘আমাদের দায়িত্ব হবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সহ অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্ককে আরও মজবুত করা। উদ্দেশ্য ইন্দো-প্যাসেফিক মহাসাগরীয় সুরক্ষায় নয়াদিল্লিকে অবদান রাখতে উৎসাহিত করা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে কখনও ত্রিপাক্ষিক, কখনও চতুরভুজ স্তরের বৈঠক।
এর আগে ট্রাম্পের প্রথম আমলে এই ধরনের একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে কিন্তু চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। কিন্তু এই নতুন কৌশল বেইজিংয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সামনে ও কেন্দ্র রাখা হয়নি। নথিতে তাইওয়ানকে চিনের বলপূর্বক দখল নেওয়ার ঝুকিগুলি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, যে এই স্বশাসিত দ্বীপ, যেটি বেজিং নিজের বলে দাবি করে, কম্পিউটার চিপের অন্যতম প্রধান উৎপাদক। তাইওয়ান দখল করলে চিন এশিয়া-প্যাসিফিকের দ্বিতীয় দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশাধিকার পাবে। দক্ষিণ চিন সাগরে এর অবস্থান জোরদার করবে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post