‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনও দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’।
স্লোগানটা শেষবার শোনা গিয়েছিল চলতি বছর ২৮ মে। স্লোগান তুলেছিলেন তারেক রহমান। সেই স্লোগান কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের মাটি। তারেক রহমান ওই দিন ঢাকার পল্টনে একটি ভার্চুয়াল সমাবেশ। সেই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনও দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’। সেই স্লোগান এখন বাংলাদেশের মাটিতে কান পাতলে শোনা যাবে। প্রশ্ন হল, হঠাৎ করে কেন বিএনপি নেতা-কর্মীদের মুখে শোনা যাচ্ছে এই স্লোগান। এই স্লোগান কাদের উদ্দেশ্যে?
সেই বিষয়ে যাওয়ার আগে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক একটি ভিডিও বার্তা তুলে ধরা যেতে পারে। সেই ভিডিও বার্তার লক্ষ্য ছিল জামায়াত। তারেক বলেন, ‘এই অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম। এবার অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে কেউ কেউ বলে যে একবার দেখুন নাষ তাদের দেশের মানুষ একাত্তর সালেই দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি। তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুঠ করেছিল। এই কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে। ’
প্রশ্ন হল তারেক এখন পাল্টি খাচ্ছেন কেন? বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটা সর্বজনবিদিত যে বিএনপি-জামায়াত-পাকিস্তান এক সরলরেখায় অবস্থিত। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদে মদতদাতাকারী হিসেবে বিএনপি এবং পাকিস্তানের নাম উঠে এসেছে। কিন্তু রাজনীতির স্রোত চিরকাল এক পথে বয়ে চলে না। বিগত বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায় সেই পুরনো সমীকরণ ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। বিএনপি এখন সচেতন ভাবে পাকিস্তানকে এড়িয়ে চলছে। আর বন্ধুত্বের বন্ধন আলগা হতেই পাকিস্তান ঝুঁকছে জামাতের দিকে। জামায়াত তাদের পরীক্ষিত আদর্শিক মিত্র। এই দূরত্ব শুধুই কি কৌশলগত ? না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তা থেকে এটা স্পষ্ট যে তারা আর জামায়াতের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই রাখতে চায় না। তাই, গত মে মাসে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে লন্ডন থেকে যে বার্তা তারেক দিয়েছিলেন, সেই বার্তাই তিনি দিলেন আরও একবার ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে জিয়ার দল তাদের ভবিষ্যতের পররাষ্ট্র নীতি আগাম নির্ধারণ করে ফেলল।
দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে পাকিস্তানপন্থী এবং ভারত বিএনপিকে নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে ট্যাগ দিয়ে আসছি। তারেক রহমান এই বদনাম ঘোচাতে বদ্ধপরিকর। চাইছেন, দলকে এই দ্বিমুখী চাপ থেকে উদ্ধার করতে। তারেক বুঝে গিয়েছে, একুশ শতকের তরুণ ভোটারদের মন পেতে গেলে পাকিস্তান প্রীতি অবিলম্বে বিসর্জন দিতে হবে। পাকিস্তান প্রীতি কোনও ইতিবাচক গুন তো নয়ই। এটা দলের ভাবমূর্তিকে জেন-এক্সের কাছে খাটো করে তুলবে।
মাত্র কয়েকদিন আগের ঘটনা। ঢাকার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের প্রতীকী জাতীয় পতাকা পদদলিত করার ঘটনা ঘটেছে। যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের জেন এক্সের একেবার না পসন্দ তাদের দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের এই মাখামাখি। কোনও দেশের জাতীয় পতাকা, তা সে প্রতীকীই হোক বা আসল, তাকে পদদলিত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং জঘন্য কাজ বলেই মনে করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে, সেটা ওই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।












Discussion about this post