বাংলাদেশে ফিরছেন তারেক রহমান?
প্রথমত যে প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্ন, সেই প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেক্ষাপটটি হল জিয়া এবং তাঁকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্থিতি। তারেক জানিয়েছিলেন তিনি মাকে দেখতে বাংলাদেশে ফিরতে চান। এখনও পর্যন্ত যা খবর, জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে। সুতরাং, মাকে দেখার জন্য বাংলাদেশে আসার কোনও সুযোগ তারেকের থাকছে না। দ্বিতীয় প্রেক্ষাপটটি হল, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। মা অসুস্থ থাকায় দলের মুখ কিন্তু এখন তারেক। প্রশ্ন উঠতে পারে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কি তারেক দেশে ফিরতে পারেন? এই প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি নিয়ে।
তারেকের দেশে ফেরার পথে প্রধান অন্তরায় কিন্তু সেনাবাহিনী। সুস্পষ্টভাবে জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। ২০০৮ সালে তারেক রহমানকে দিতে হয়েছিল মুচলেকা। বলেছিলেন, তিনি আর সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নেবেন না। সেই শর্তে তাকে দেশ থেকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই তারেক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত শতাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। কী বলছেন তারেক?
তারেক বলছেন, ‘আমি স্ক্রিনে এখানে… আমি স্ক্রিনে.. একজনকে দেখতে চাচ্ছি। এটা একান্তই একটু পার্সোনাল ব্যাপার। তারপরেও আমি… সবাই.. আছে.. একান্ত পার্সোনাল ব্যাপার। তারপরেও আমি এখানে একটু উল্লেখ করতে চাচ্ছি.. আমাদের সামনে এখানে আম্মার সময়ে ছিলেন.. উনি ডিজিএসএফএফ ছিলেন… রুমি সাহেব ছিলেন… রুমি সাহেব উপস্থিত আছেন?.. জি, আই ক্যান সি ইওর হ্যান্ড। রুমি সাহেব, আপনার নিশ্চই মনে আছে… আই ইউ উই অ্যান অ্যাপলজি। আপনার নিশ্চই মনে আছে যে একটা মিছিল হয়েছিল একবার। সেই পুরন ঢাকা থেকে আমিন বাজারে … এবং পুরা মিছিলটা আমি হেটে এসেছিলাম। আম্মাও ছিলেন সেই মিছিলে… তো সেই মিছিলে… অনেক ভিড় হট্টগোল… আপনি আমাকে একটা কোনও কিছু বলেছিলেন… অ্যাম ভেরি সরি… আমি সেদিন আপনার সঙ্গে একটু রুড ব্যবহার করেছিলাম….সব কিছু মিলে… অ্যাম ভেরি সরি ফর দ্যাট। আমি অনেকদিন চেষ্টা করেছি আপনাকে রিচ করার জন্য… আই এক্সপ্রেস মাই অ্যাপলজি….আই এক্সপ্রেস মাই অ্যাপলজি। আমি সুযোগ পাইনি। আজকে সুযোগ পেয়েছি। অ্যাম রিয়েলি সরি ফর দ্যাট… সকলে ভালো থাকবেন।’
এ সময় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ ফাতেমী রুমি বলেন, ‘আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। যেটা বলেছেন, থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ। আই উইল রিমেম্বার ইট।’
তারেক জিয়ার হঠাৎ করে সেনা বাহিনী এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের খুশি করার এই চেষ্টার পিছনে অনেকেই তার দেশে ফেরার সম্ভাবনার অঙ্ক মিলিয়ে দেখছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা কথা। এখনও পর্যন্ত যা খবর, এই নির্বাচনে বেগম-পুত্রের অংশ নেওয়ার কথা। প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। কিন্তু এখনও তিনি দেশে ফেরেননি। এমনকী মা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেও তিনি লন্ডনে রয়েছেন।
মঙ্গলবারের সভায় সেই সেনা অফিসারদের সঙ্গে তারেক কথা বলেন, যাঁরা ২০০৮ সালে তারেক লন্ডনে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সেই সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারেক-জিয়ার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে গিয়েছিল। একাধিক মহলের দাবি, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক। অনেকেই মনে করছেন, এমন একজন অফিসারকে তারেকের খুঁজে না পাওয়ার কথা নয়। আসলে সকলের সামনে ভুল স্বীকার করে এবং ভালমানুষি করবেন বলেই মঙ্গলবার রাতের বৈঠকে তারেক ওই অফিসারদের উদ্দেশ্য এসব কথা বলেন।












Discussion about this post