ভারত অস্থির না হলেও প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে বেশ উদ্বেগে। গত জুলাই-অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশ অশান্ত। শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লির আশ্রয়ে রয়েছেন। পদ্মাপার শাসন করছেন সুদূর ফ্রান্স থেকে আসা এক অনাবাসী বাংলাদেশি মহম্মদ ইউনূস। আপাত দৃষ্টিতে পাকিস্তানকে শান্ত মনে হলেও সে দেশের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। চারটি প্রদেশের মধ্যে তিনটি প্রদেশ রীতিমতো অস্থির। বালোচবাসী স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। তারা চাইছে পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসতে। সরকারের বিরুদ্ধে তারা কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। অস্থির সিন্ধু প্রদেশ। তারাও আর পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে চাইছে না। চাইছে স্বাধীন সিন্ধু রাষ্ট্র। অস্থির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে। এদিকে আবার পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পদোন্নতি হয়েছে। তিনি সেনাপ্রধান থেকে সেনা সর্বাধিনায়ক হয়েছেন। চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ, সংক্ষেপে সিডিএস। দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর বাদে পাকিস্তান সেনাপ্রধানকে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ পদে উন্নীত করা হয়েছে। সে দেশে প্রথম ফিল্ড মার্শাল পদে হয়েছিলেন জেনারেল আয়ুব খান। যদিও পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একেবারেই মত ছিল না মুনিরকে ওই পদে উন্নিত করার।
আমাদের দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, প্রতিবেদনের বিষয় যেখানে বাংলাদেশ, সেখানে পাকিস্তান প্রসঙ্গ এল কীভাবে?
আগে আমেরিকা বাংলাদেশের পাশে ছিল। বলা হচ্ছে, পদ্মাপারে ক্ষমতার পালাবদলের মূলে তারা। আমেরিকা চেয়েছিল, হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে এমন একজনকে শাসনক্ষমতায় বসাতে, যাঁর কাজ হবে তাদের স্বার্থ পূরণ করা। কিন্তু ইউনূস তাদের কোনও সার্থই পূরণ করতে পারেনি। উল্টে পাকিস্তানের সঙ্গে তারা মাখামাখি শুরু করেছে। আমেরিকা সেটা একেবারেই পছন্দ করছে না। তাদের পছন্দ না হওয়ার আরও বড়ো কারণ বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, তার সুতো বাংলাদেশ হলেও সুতোর গোড়া পাকিস্তানেই। ভারতীয় গোয়েন্দাদের তদন্ত উঠে এসেছে, বাংলাদেশের মাটি থেকেই পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ওই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছে। যদিও ঢাকা থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বাংলাদেশে পাক দূতাবাসে খোলা হয়েছে আইএসআই-য়ের দফতর। সব থেকে ভয়ঙ্কর বিষয় হল, পাকিস্তানের পরমাণু ভাণ্ডারের চাবি এখন রয়েছে আসিম মুনিরের হাতে।
তাহলে কি বাংলাদেশ এখন নিয়ন্ত্রণ করছে পাকিস্তান? এককথায় হ্যাঁ। বাংলাদেশ চলছে পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশনে। তারাই সে দেশের হর্তা-কর্তা-বিধাতা। আর পাকিস্তান সেনা প্রধানের পদোন্নতিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সিন্ধু প্রদেশের শফি বুরফাত। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আসিম মুনিরের দেশের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডাররে চাবি হাতে নেওয়ার আসল উদ্দেশ্য পরমাণু অস্ত্র সন্ত্রাসবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া। একই সঙ্গে তাঁর আশঙ্কা, দেশ শীঘ্রই সেনা শাসনে চলে যেতে পারে। দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক সিন্ধু প্রদেশের এই নেতাকে।
জাতীয়তবাদী দল ‘জয় সিন্ধু মুত্তাহিদা মাহাজ’, সংক্ষেপে জেএসএমএম-য়ের চেয়ারম্যান তিনি। গত রবিবার ছিল সিন্ধ সাংস্কৃতিক দিবস। সেই উপলক্ষ্যে বহু মানুষ রাস্তায় নামেন। ওই দিন একটি বড়ো মিছিলের আয়োজন করা হয়। সেই মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই শফি বুরফাত। কিন্তু উদযাপন বদলে যায় আন্দোলনে। স্বাধীন সিন্ধুপ্রদেশের দাবিতে সরব হন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইট। পুলিশও পালটা কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশকর্মী।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post