প্রবাদ আছে, পাগলেও নিজের ভালো বোঝে। অথবা পাগলকে যদি ভালো করে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে সে নিজের ভালো বোঝার চেষ্টা অন্তত করে। কিন্তু ইউনূস পাগলকে কে বোঝাবে, যে ভারত বিরোধিতা করে আখেরে লাভের লাভ কিছুই হবে না। আখেরে ক্ষতি হবে। ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষতি, রাজনৈতিক ক্ষতি। তারপরেও ইউনূস সরকার এবং তাঁর কচি সংসদ সদস্যদের ভারত বিরোধিতা কোনও অবস্থাতেই বন্ধ হচ্ছে না। বাংলাদেশের শেষ আশা এবং ভরসা যে ভারত, সেটা না ইউনূস বোঝার চেষ্টা করছেন না তাঁর সভাসদেরা।
বাংলাদেশ সরকার আচমকা সিদ্ধান্ত নিল ভারত থেকে তারা আর পেঁয়াজ আমদানি করবে না। পরিবর্তে পাকিস্তান, চিন মায়ানমার,তুরস্ক এবং মিশর থেকে তারা আমদানি করবে। আর তাতে যা হওয়ার সেটাই হয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে পিয়াজের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। একসময় বাজারে এক কিলো পেঁয়াজের দাম পৌঁছে যায় ১৬০ টাকা। তারপরে ইউনূস সরকারের টনক নড়ে। বুঝতে পারে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করলে এই দাম যে কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাষ হয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সেটা খুব কম। ফলে, চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য তাদের ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা ছাড়া বিকল্প কোনও রাস্তা ছিল না। ঘটনা হল বছর পাঁচেক আগে বাংলাদেশ বাণিজ্য এবং শুল্ক কমিশন (বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন বা বিটিটিসি) পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে ভারত-নির্ভরতা হ্রাস করার পরামর্শ দিয়েছিল। তখনই পাঁচ বিকল্প দেশের কথা বলা হয়েছিল। সেই পাঁচ দেশ হল পাকিস্তান, চিন, মায়ানমার,তুরস্ক এবং মিশর। কিন্তু সেখান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ দিয়ে বাংলাদেশের চাহিদা কোনওভাবেই মেটাতে পারছিল না তদারকি সরকার। সে কারণে তারা একপ্রকার বাধ্য হয়ে ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
ভারত থেকে যে পরিমাণ পেঁয়াজ অন্য দেশে রফতানি হয়ে থাকে, তার এক তৃতীয়াংশ রফতানি হয় প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে। শেষবার গত ৩০ অগাস্ট পেঁয়াজের গাড়ি গিয়েছিল বাংলাদেশে। পদ্মাপারে গিয়েছিল ৩০ টন পেঁয়াজ। যদি এই পরিমাণ আমদানিতে খুশি হতে পারেনি বাংলাদেশের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল। সূত্রের খবর, পেয়াঁজ আমদানির জন্য ইউনূসের কৃষি মন্ত্রকের কাছে গত অগাস্ট থেকে সাড়ে তিন হাজার আবেদন জামা পড়ে। তার মধ্যে থেকে ঝাড়াই-বাছাই করে ৫০জনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার। এরা সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে আমদানি করতে পারবে। তবে এর জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামীবছর ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারত থেকে এই পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করার ছাড়াপত্র দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন হল, অন্য জায়গায়। ভারতের বিরোধিতা করে বাংলাদেশের কি কোনও লাভ হয়েছে? সামান্য একটি আনাজ এ দেশ থেকে পদ্মাপারে যাওয়ার ব্যাপারে যে দেশের সরকার বেঁকে বসায় পেঁয়াজের দাম এক ধাক্কায় ১৬০ টাকায় পৌঁছে যায়। কোথাও কোথাও অবশ্য ১৫০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়েছে। চিন,তুরস্ক,পাকিস্তান, মায়ানমার এবং মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে জোগানের সঙ্গে যে পাল্লা দেওয়া যাবে না, সেটা তো আগেই তদারকি সরকারের বোঝা উচিত ছিল। তাছাড়া ওই সব দেশ থেকে যে ধরনের পেঁয়াজ বাংলাদেশ আসে, তার স্বাদ তো ভারতের পেঁয়াজের কাছে কিছুই না।
তার মানে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল। দাঁড়াল গাধায় জল ঘুলিয়ে খায়।












Discussion about this post