বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনা এএমএম নাসিরুদ্দিন হোসেন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি জানিয়ে দেন, কবে বাংলাদেশে ভোট। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট। ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত। জাতীয় সংসদের নির্বাচন এবং গণভোট একই বুথে পৃথক ব্যালটে হবে। রাত থেকেই শুরু হবে ভোট গণনা। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে শুরু হয়ে গিয়েছে তৎপরতা।
এই অবস্থায় হাসিনার আরও একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের একটি সংবাদসংস্থার তরফে তাঁকে ই-মেইল করা হয়েছিল। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় জিয়াকে নিয়ে। প্রশ্ন করা হয়েছিল ক্ষমতা থেকে তাঁর সরে যাওয়ার পিছন ডিপস্টেটের ভূমিকা নিয়ে। প্রথম প্রশ্নের জবাবে তিনি যা বলেছেন, সেটা তাঁর আগের সাক্ষাৎকারগুলির সঙ্গে একেবারেই বেমানান। টিউলিপ সিদ্দিকির বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। সাক্ষাৎকারে মোট ১১টি প্রশ্ন করা হয়েছিল হাসিনাকে। ১১টি প্রশ্নের মধ্যে ছিল দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ।
জিয়াকে নিয়ে হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি তাঁকে কতটা মনে করতে চান? শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর শুনে আমি ভীষণ চিন্তিত। তিনি যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন, সেই প্রার্থনা করব।’ যদিও ক্ষমতায় থাকতে ‘খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতুতে তুলে নদীতে ফেলে দেওয়া উচিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় – গুজব রয়েছে আপনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল। আপনার প্রতিক্রিয়া কী? উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এখন পর্যন্ত এর নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করলে স্থিতিশীলতা, জবাবদিহি ও জাতীয় ঐক্য পুনরুদ্ধারের বাস্তব কাজ থেকে মনোযোগ সরে যেতে পারে।’
অথচ এর আগে ভারতেরই একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, ‘সেন্টমার্টিন আর বঙ্গোপসাগর আমেরিকার হাতে ছেড়ে দিলে আমি ঠিকই ক্ষমতায় থাকতে পারতাম।’ অন্তর্বর্তী সরকার ভূমিকা নিয়েও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়েছিল – ‘আপনি কী মনে করেন মুহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী শক্তির সঙ্গে কাজ করছে?’ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি অতিরিক্ত অনুমান করতে চাই না। তবে আমাদের জাতীয় বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের উদ্বেগজনক লক্ষণ আছে। আমি বারবার দেশের বিভেদকে কাজে লাগানো বিদেশি মধ্যস্থতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছি। বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ উঠলে তা স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। বাংলাদেশকে অবশ্যই নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ও সার্বভৌম ইচ্ছায় সমস্যা সমাধান করতে হবে; বাইরের প্রভাবে নয়।’ তাঁর এই কথার সঙ্গে কলকাতার একটি প্রথম সারির দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বয়ান মিলছে না। কলকাতার ওই দৈনিককে দেওয়া অডিও বার্তায় হাসিনা বলেছিলেন, ‘এ সব ইউনূসের কারসাজি। হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়ে বিদেশিদের থেকে টাকা খেয়ে দেশের সর্বনাশ করেছেন। ’
বাংলাদেশের বর্তমান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নির্যাতন ও নিপীড়ন নিয়েও হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে হাসিনা বলেন, ‘তদন্ত এবং সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিগত দোষ নির্ধারণ করা উচিত। ব্যাপক দাবি যথাযথ। নিরপেক্ষ তদন্তের বিকল্প হতে পারে না। ’ আইসিটির রায়কে আগের মতই তিনি পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post