ইট মারলে যে পাটকেলটি খেতে হয়, সেটা বোধহয় বাংলাদেশ বুঝতে পারেনি। অথবা জেনে বুঝে একের পর এক কুকীর্তি করে গিয়েছে। এখন তাদের সেই কুকীর্তির খেসারত দিতে হচ্ছে।
প্রতিবাদী কণ্ঠ হাদির মৃত্যুর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভারতকে কাঠগড়ায় তুলেছিল। উস্কে দিয়েছিল হাদির অনুগামীদের। সিঙ্গাপুর থেকে যেদিন হাদির মৃত্যুর খবর এলে, সেইদিন বাংলাদেশজুড়ে তার অনুগামীরা নির্বিবাদে তাণ্ডব চালায়। এমনকী ভারতীয় হাইকমিশনের দফতর ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয়। নিরাপত্তার খাতিরে ভারতীয় হাইকমিশন অফিস বন্ধ করে দিতে হয়। ঢাকা একবারের জন্য বুঝতে পারেনি দিল্লির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে।
বাংলাদেশে অশান্তির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের বাইরে নিরাপত্তার কাজে সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভকারীরা হাইকমিশনের বাইরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। এর আগে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে পাথর ছোড়া হয়েছিল। পরে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েছিল। ১২ জনকে আটক করে। সংঘর্ষে তিন পুলিশকর্মীও আহত হন।
এদিকে রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ঘেরাও করার ডাক দেওয়া হয়েছে। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তাঁর হামলাকারী ভারতে পালিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করে এই ভারত বিদ্বেষের ঝড় উঠেছে বাংলাদেশে। নিরাপত্তারক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে। তবে একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যায়। এই আবহে চট্টগ্রামের রাস্তায় উত্তেজনা ছড়ায়।
এদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’-এর অফিসেও তাণ্ডব চালানো হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরই সঙ্গে ভারত বিরোধী স্লোগানও শোনা যাচ্ছে – ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘ভারতের আগ্রাসন, ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও’। একাধিকবার এই নেতা ভারত বিরোধী মন্তব্য করেছিলেন। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠল সেখানে হিন্দু নিধনের। একজন হিন্দু যুবককে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে বাংলাদেশ থেকে। সেই ভিডিয়ো সামনে এসেছে। অভিযোগ, ওই হিন্দু যুবককে মারধর করে তারপর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সব ঘটনাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিকমহলেও প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনও দিকে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত থেকে তিক্ততর হয়েছে। এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লা ভারত থেকে সেভেন সিস্টার্স কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তো কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, ‘গত এক বছর ধরে বাংলাদেশের একাংশ থেকে বারবার এই ধরনের মন্তব্য ভেসে আসছে। এটা ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক। উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার যে উদ্ভট স্বপ্ন কেউ কেউ দেখছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অবাস্তব।’ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সেই সঙ্গে ভারত একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র। তাই ভারতের অখণ্ডতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস যেন কেউ না দেখায়। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘বাংলাদেশ কী ভাবে এমন ধৃষ্টতা দেখায়? ভারতের মানুষ কিন্তু এ সব চুপচাপ মেনে নেবে না।’
শিলিগুড়ি করিডোরকে রক্ষা করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের খুব কাছে মিজোরামে মোতায়েন করা হয়েছে ভারতীয় সেনা। ইস্টার্ন কম্যান্ডের শীর্ষকর্তারা ব্যাটিলিয়ন নিয়ে সেখানে হাজির। উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে উচিত শিক্ষা দেওয়া। মিজোরাম সীমান্তে জরুরী ভিত্তিতে সেখানে একটি সেনাবেশ তৈরি করতে যাচ্ছে ভারত। ১৯ ডিসেম্বর ইস্টার্ন কম্যান্ডের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাম চন্দর তিওয়াড়ি আইজলের কাছে খোয়াই নদীর কাছে একটি বিশেষ সফরে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন থার্ড কোরের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল অজিত এস পেন্থাকর, ১৭ মাউন্ট স্ট্রাইক কোরের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল যশ আওলাহাত। এই সফর রুটিন সফর ছিল না।
ভারতের প্রাক্তন সেনাকর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ বোঝার চেষ্টাই করছে না যে দিল্লির সেনাভবন থেকে নির্দেশ অপেক্ষায় রয়েছে ভারতীয় জওয়ানরা। চাইলেই সেকেন্ডের মধ্যে ঢাকাকে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে দিল্লি। চট্টগ্রামের পাশাপাশি সিলেটেও সতর্কতা তুঙ্গে। অশান্তির আশঙ্কায় সিলেটের ভারতীয় উপদূতাবাস অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সিলেট মেট্রপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তৃতীয় পক্ষ যাতে নতুন করে অশান্তি ছাড়াতে না পারে, সেই কারণে ভারতীয় উপদূতাবাস এবং ভিসা কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post