নজরের আবার রকমফের রয়েছে। কোনও কোনও নজর সুনজর। একটু বঙ্কিমদৃষ্টিতে দেখলে সেটা কুনজর। চোখে চোখ রাখাকে বলা হয় নজরবন্দী। ছোটো ছোটো ছেলে মেয়েদের যাতে কারও কুনজর না পরে তার জন্য মায়েরা তাদের মাথায় দিয়ে দেন কাজলের টিপ। কোনও কিছু দৃষ্টিনন্দন হলে সেটা হয়ে ওঠে নজরকাড়া। কারও কাছে যেটা সুনজর, অপরের কাছে সেটা হয়ে ওঠে কুনজর। সেটাকে অবশ্যই নজরের ফারাক বলা যেতে পারে। নজর তো চোখের কাজ।
গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের পর থেকে বাংলাদেশ উত্তাল। সে দেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে ভারত। আবার সে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। তাঁর যাতে কেউ ক্ষতিসাধন করতে না পারে, তার জন্য দিল্লি তাঁর দিকে ২৪ ঘণ্টা নজর রেখেছে। সেটা বাংলাদেশের কাছে আবার কুনজর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই নিয়ে গত দেড় বছর ধরে দিল্লিকে কত কিছুই না বলে এসেছে ঢাকা। সাউথব্লক থেকে তার সমুচিত জবাবও দেওয়া হয়েছে। সে সব যখন অতীত হল, এবার তারা পড়ল হাদিকে নিয়ে। ঢাকা থেকে দাবি করা হল, হাদিকে না কি ভারতের গুণ্ডারা মেরেছে। আর কাজ শেষ করে তারা আবার ভারতে চলে গিয়েছে। যদিও তাদের পুলিশ কিন্তু অন্য কথা বলছে। খেলা কিন্তু এখন ঘুরে গিয়েছে। হাদির ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি বলেছে, তাঁর দাদার মৃত্যুর দায় বাংলাদেশ সরকার এড়াতে পারে না। মঙ্গলবার ঢাকার শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে ওমর হাদি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন, আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন, তা আমরা কখনওই হতে দেব না। ’
পরিস্থিতি যখন এরকম তখন বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তানের এক নেতা দিয়ে বসলেন ঢাকা দরদি বার্তা। এককালে যে দেশ পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তির জন্য লড়েছিল ‘মুক্তিযুদ্ধ’, সেই বাংলাদেশকে সমর্থন করে এল পাকিস্তানের শরিফ ভাইদের পার্টির যুব উইং পিএমএল-র এক নেতার বার্তা। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দল মুসলিম লীগ –এনের নেতা কামরান সাঈদ উসমানি বলেছেন, ‘ভারত যদি বাংলাদেশের খারাপ কোনও অভিপ্রায়ে নজর দেয়, তাহলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও মিসাইলে তার জবাব দেবে। ’
সে বলেছে, ‘যদি ভারত বাংলাদেশের সায়ত্তশাসনের ওপর আক্রমণ করে বসে, যদি কেউ বাংলাদেশের দিকে খারাপ দৃষ্টিভঙ্গীতে তাকায়, তাহলে মনে রাখবেন, পাকিস্তান জনগণ, পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী এবং আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র খুব বেশি দূরে নয়। অখণ্ড ভারতনীতি যদি বাংলাদেশের ওপর চাপাতে চায়, তাহলে পাকিস্তান তা সহ্য করবে না। বাংলাদেশকে ভারত খারাপ নজরে দেখলে পাকিস্তান পাল্টা জবাব দেবে। তিনি আবার হাদির প্রশংসাও করেছেন।
ঠিক কী বলেছেন তিনি, সেটা তাঁর কথাতেই শোনা যাক।
হাদি প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য ‘ওসমান হাদি এমন একজন নেতা ছিলেন যিনি বলতেন বাংলাদেশকে তিনি কখনই কারও গোলামে পরিণত হতে দেবেন ন। কোনও মুসলমান গলা তুললে তাঁর কণ্ঠরোধ করা হত। …. পাকিস্তান আর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শিশু ওসমান হাদি’। আর ঢাকার জন্য তাঁর দরদি-মরমি বার্তা হল, ‘আমি আমার বাংলাদেশের ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। গোটা পাকিস্তান আপনাদের সঙ্গে রয়েছে। কেই যদি বাংলাদেশকে চাপে রাখার কৌশল করে, তো পাকিস্তান আপনার পাশে দাঁড়াবে। কেউ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করার চেষ্টা করলে পাকিস্তান আপনাদের পাশে থাকবে। কেউ বাংলাদেশের দিকে তাকালে জেনে রাখুন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ, পাকিস্তান সেনা মিসাইলের খুব কাছেই আপনি রয়েছে।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post