পদ্মাপারে রদবদল। আর তা নিয়ে একদিকে শুরু হয়েছে গুঞ্জন, অপরদিকে চলছে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি। হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে এই রদবদলকে পদ্মাপারের রাজনৈতিকমহল একটু ভিন্ন চোখে দেখছে। বলা হচ্ছে, তদারকি সরকার প্রধান আসলে এই ঘটনার দায় নিজের ঘাঁড় থেকে ঝেড়ে ফেলে তাঁর এক উপদেষ্টার ঘাঁড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এটাও শোনা যাচ্ছে, এই রদবদলের পিছনে সেনাবাহিনীর হাত রয়েছে।
হাদির ঘটনায় যে তদারকি সরকার রীতিমতো চাপে পড়ে গিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। হাদির ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি দাদার মৃত্যুর জন্য ইউনূস সরকারকে দায়ী করেছেন। শরীফ বলেছে, তাঁর দাদার মৃত্যুর দায় বাংলাদেশ সরকার এড়াতে পারে না। মঙ্গলবার ঢাকার শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে ওমর হাদি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন, আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন, তা আমরা কখনওই হতে দেব না। ’ পরিস্থিতি যে রীতিমতো তপ্ত, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সেই উত্তপ্ত পরিবেশকে প্রশমিত করার একটা উদ্যোগ নিয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান। এমনটা হতে পারে, তা আন্দাজ করা গিয়েছিল। দেখার দরকার ছিল এটাই, কাকে সরিয়ে কাকে আনা হবে।
বলির পাঁঠা করা হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীকে। তাঁকে সরিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পেতে চলেছে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে। এই পদে তাঁর থাকা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। অভিযোগ, যে বিষয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা নেই, সেই জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন তাঁর কাধে তুলে দেওয়া হল? ভারতের একটি গণমাধ্যম এই রদবদল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রদবদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীকে সরিয়ে সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে সেনাবাহিনী কঠোর আপত্তি জানায়। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সহ উর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তারা খলিলুর রহমানের দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং অতীতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাঁর বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এই নিয়োগের বিরোধিতা করেন। জানা গিয়েছে, এর আগে খলিলুর রহমন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের জন্য একটি সামরিক করিডোর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনী এই প্রস্তাবকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে তা প্রত্যাখ্যান করে। সেনাপ্রধান তখন ক্ষুব্ধ হয়ে ‘নো ব্লাডি করিডোর’ মন্তব্য করেছিল। এই ঘটনার জেরে জাতীয় নিরাপত্তার উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটে। এমনকী, সেনাকর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসতেও অস্বীকার করেন। সেনানিবাসে খলিলুরের প্রবেশ একসময় নিষিদ্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। তাঁকে দেওয়া হবে এসএসএফ নিরাপত্তা। যদিও এই নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন সরকার প্রধান এবং রাষ্ট্রপ্রধান। এছাড়া এই ধরনের নিরাপত্তা কারও পাওয়ার কথা নয়। জিয়াকেও কিছুদিন এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেকের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ক্ষমতার ভারসাম্য ও সামরিকবাহিনীর সতর্ক অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলেছে। এর আগে গত বছর ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেনকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে ১৭ অগাস্ট তাঁকে সরিয়ে জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীকে ওই পদে নিয়োগ করা হয়। এবার জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীকেও তদারকি সরকার প্রধান সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। খলিলুর রহমান কতদিন ওই পদে থাকতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।












Discussion about this post