কিছুদিন আগে কলকাতা এসেছিলেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত। কলকাতা সহ দেশের চারটি বড়ো শহরে বক্তৃতামালা কর্মসূচির আয়োজন করে সঙ্ঘ পরিবার। সেই উদ্দেশ্যে সঙ্ঘ সঞ্চালকের কলকাতায় আসা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। জানতে চাওয়া হয়েছিল, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার প্রসঙ্গে ভারত সরকারের কিছু করণীয় আছে কি না, সঙ্ঘের কী ভূমিকা নেওয়া উচিত। ভাগবত বলেন, ‘‘প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতির প্রভাব এখানে পড়ছে, পড়াটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের বিষয়ে আপনারা যা চাইছেন, যা ভাবছেন, আমরাও তা-ই চাইছি এবং ভাবছি। কিন্তু ভারতের এতে কিছু করার আছে কি না, সে বিষয়ে ভারত সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা চাই সরকার কিছু করুক।’’ মোহন ভাগবত এও বলেন, সরকার হয়তো কিছু করছে। সেটা আমরা জানতে পারছি না।
আক্ষরিক অর্থেই সরকার সীমান্তে তাদের দায়িত্ব পালন করে চলেছে। প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতি যেভাবে পরতে পরতে বদলে যাচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে সাউথব্লক হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। পদ্মাপার থেকে একের পর এক হুমকি এসেছে। ভারতের সেপারেটিস্টদের সে দেশে আশ্রয়, প্রশ্রয় দেওয়ার মতো হুমকি –বার্তাও এসেছে। এর পর যে কোনওভাবেই হাত গুটিয়ে বসে থাকা যায় না, সেটা পরিষ্কার।
বাংলাদেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতির আবহে সে দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে দিল সাউথব্লক। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গোপনে মোতায়েন করা হয়েছে ব্রহ্মস। মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। কিছুদিন আগে ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেছিলেন, অপারেশন সিন্দুরের মতো শর্ট রেঞ্জের এই রকম যুদ্ধের প্রস্তুতি সেটা ভারতের হাই ইন্টেনসিটি শর্ট ডিউরেশনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সাউথব্লক তো অনেকদিন ধরেই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করতে শুরু করেছে। তৈরি করেছে অস্থায়ী ছাউনি। রাখা হয়েছে রকেট লঞ্চার। তারপরেও কেন ঢাকার বিরুদ্ধে দিল্লি সেনা অভিযানে যাচ্ছে না। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত আগবাড়িয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যাবে না। সেটা করলে ভারতের দুর্নাম হবে। ভারত চাইছে, পাকিস্তানের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে তারা ভারতের বিরুদ্ধে কোনও একটা সামরিক পদক্ষেপ করুক। সেটা করলে দিল্লির পক্ষে প্রত্যুত্তর দেওয়াটা আরও সহজ হয়ে যাবে। ভারত চাইছে প্রথম ভুলটা পদ্মার ওপার থেকে আসুক। যেমনটা হয়েছিল অপারেশন সিঁদুরের ক্ষেত্রে। পহেলগাঁও হামলার পর কিন্তু ভারতের অপারেশন সিঁদুর। চিকেন নেকের কাছে ৭৫য়ের বেশি যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে দিয়েছে। রাখা হয়েছে S 400 প্রযুক্তি। কিষানগঞ্জ ও পুর্নিয়ার কাছে তৈরি হচ্ছে সেনা ছাউনি।
ইতিমধ্যে ভারতীয় সেনার অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে ব্যস্ততা। ‘ফ্লাই ট্যাঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত রুশ কপ্টারগুলিকে অবসরে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত তার দূরপাল্লার আঘাত হানতে সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে একটি বড়ো পদক্ষেপ নিতে চলেছে। সূত্রের খবর, ৮শো কিলোমিটার পর্যন্ত ব্রহ্মোস ইআর ক্ষেপণাস্ত্র ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের উড্ডীয়ন পরীক্ষা চলছে। ব্রহ্মোস ই আর হল বর্তমান ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরবর্তী এবং আরও শক্তিশালী সংস্করণ। এর লক্ষ্য ভারতের তিন বাহিনীর ক্ষমতাকে আরও বৃদ্ধি করবে। ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস ইতিমধ্যে ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন শুরু করেছে। এটি ৩০০ কিলোমিটারেরও কম পরিসরের পুরনো সংস্করণের তুলনায় একটি বড়ো অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।












Discussion about this post