একটা গুলি। একটা অপমৃত্যু। অজস্র প্রশ্ন। সেই সব প্রশ্নের মধ্যে কিছু প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেলেও সেগুলি পরস্পর বিরোধী। ফলে, সব কিছু তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। আর মৃতের আত্মীয় ভরা হাটে যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে তো সব হিসেব উল্টে গেল। কার্যত, তাঁর ওই বক্তব্যে এখন সরকারই বিচারের কাঠগড়ায়। সরকার এতোদিন ধরে ওই মৃত্যুতে ব্যবহৃত গুলির খোলটি ব্যবহার করে ফায়দা তুলছিল। চেষ্টা চালায় কোনও একটি রাজনৈতিক দলকে ফাঁসিকাঠে তোলার। ওই মৃত্যুর সঙ্গে একটি দেশকে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টাও চলে। কিন্তু দাবার পাশা যে এভাবে উল্টে যাবে, সেটা তাদের জানা ছিল না। যে মৃত্যু একটি সরকার, প্রশাসনের অস্ত্র হয়ে উঠেছিল, সেই মৃত্যু আর মৃতের আত্মা এখন তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
এটা হওয়ারই কথা ছিল। আজ না হলে ১০ দিন বা ২০ দিন বাদেও হত। আসলে সত্যকে যে কোনওভাবেই আড়াল করা যায় না। তাকে কোনওভাবেই ধামাচাপা দেওয়া যায় না। সত্য, সেটা নিষ্ঠুর হলেও প্রকাশ পেয়ে যায়। সব থেকে যেটা আরও বেশি করে ঘৃণার, তা হলে ওই অপমৃত্যু নিয়ে একটি সরকার কদর্য রাজনীতি করতে শুরু করে। অপমৃত্যু যার হয়েছে, সে নিঃসন্দেহে এক ভারত-বিরোধী, ভারত-বিদ্বেষী নেতা। কিন্তু মৃতের সঙ্গে যেমন শত্রুতা হয় না, মৃত্যুর সঙ্গেও না। আর মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি? নৈব নৈব চ। অথচ মৃত্যুকে নিয়েও যে রাজনীতি করা যায়, সেটা দেখিয়ে দিল একটি সরকার। এটাও সুস্পষ্টভাবে বলা দরকার, মৃত্যু যার হয়েছে সে কোনও জঙ্গি নয়। তাঁর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের যোগযোগ রয়েছে, তার কোনও প্রমাণ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সে চেয়েছিল নির্বাচন এবং সরকার ঘোষিত দিনেই হতে হবে বলে জোর গলায় দাবি করেছিল। বলা হচ্ছে, ওই দাবি তাঁর কাল হল।
নির্বাচন না হলেও সরকারের বিপদ ছিল। এখন নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে সরকারের বিপদ বাড়ল বৈ কমল না। কারণ, আন্তর্জাতিকমহল থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ। ভোটে সব রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন। এই সব পরামর্শে সরকারের মানসিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বলা হচ্ছে, ওই অপমৃত্যু আসলে নির্বাচন বানচাল করার একটা কৌশল। কিন্তু সেই কৌশল যে আর কাজে আসবে, সেটা মৃতের আত্মীয়র বক্তব্য থেকে পরিষ্কার। এখন একটাই প্রশ্ন পরে টার্গেট কে।
আশা করা যায়, কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে এই গৌড়চন্দ্রিকা, তা অনেকেই বুঝে গিয়েছেন। এই গৌড়চন্দ্রিকার কেন্দ্রীয় চরিত্র শরিফ ওসমান হাদি। তাঁর ভাই প্রকাশ্য জনসভায় দাদার মৃত্যু নিয়ে যা বলেছে, তাতে ইউনূসের সব হিসেবে উল্টে গিয়েছে। সরকার বুঝে উঠতে পারছে না, নলের নিশানা এখন কার দিকে? সেই সময় প্রকাশ্যে এলো একটি ভিডিও। যদিও নিউজ বর্তমান সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি।
এই ভিডিও মেজর সাম্মার সিং তুরের। তিনি বলছেন, পরের টার্গেট হাসনাত আবদুল্লাহ। কী বলছেন এই মেজর? মেজর বলছেন, হাদির পরের টার্গেট হাসনাত। ওকে কবে শেষ করা যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ওর নাম চলে এসেছে।
এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই হাসনাতের বেশ কয়েকটি ভিডিও সামনে এসেছে। ভিডিওগুলিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে কাঁদতে। যদিও নিউজ বর্তমান ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। কবে মেজর তুরের ভাইরাল হওয়া ভিডিও যে হাসনাতের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।












Discussion about this post