ভারতের বাঁকা ঘাড় কোনওভাবেই আর সোজা করতে পারছে না আমেরিকা। ‘আত্মনির্ভর’ ভারত যে আর কারও আঙুল ধরে হাঁটতে রাজি নয়, সেটা আমেরিকা বেশ ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছে। দিল্লি যাতে রাশিয়ার থেকে অশোধিত তেল না কেনে, তার জন্য বেশ কয়েকবার ওয়াশিংটন থেকে নিষেধ করা হয়। কিন্তু দিল্লি বুঝিয়ে দিয়েছে, যে কোনও চাপের কাছে তারা মাথা নোয়াতে রাজি নয়। তার প্রয়োজনও হবে না। দিল্লির এই একগুঁয়ে মনোভাবে রীতিমতো চটে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই এবার ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০০ % হারে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা এমন একটা বিল আনতে চলেছে, যেই বিল আইনে পরিণত হলে ভারতের অর্থনীতিতে সরাসরি ধাক্কা মারবে। এই বিলের হোতা রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। যদিও সাউথব্লকও পাল্টা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
বিলের নাম ‘স্যাংশানিং রাশিয়া অ্যাক্ট।’ বিলটি যৌথভাবে এনেছেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল।এই বিলটি রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি করা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনকে ক্ষমতা দেবে। এর উদ্দেশ্য হল রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের উৎস বন্ধ করা। এই আবহে ভারতের উপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানির জেরে ইতিমধ্যেই ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাতেও রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার শর্ত জোরালোভাবে তুলে ধরছে ওয়াশিংটন। যদিও নয়া দিল্লি স্পষ্ট করেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও উপভোক্তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন উৎস থেকে কতটা সাশ্রয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় থাকবে বলে জানিয়েছে ভারত।
গ্রাহাম বলেন, ‘দ্বিদলীয় রুশ নিষেধাজ্ঞা বিলে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন, ব্রাজিলের মতো দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে হোয়াইট হাউজ। রাশিয়ার জ্বালানি খাতে সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলির আমদানির ওপর উচ্চমাত্রায় শুল্ক আরোপের এক্তিয়ার পাবে হোয়াইট হাউজ। গ্রাহাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ দেবে, যারা সস্তা রুশ তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে।’ গ্রাহাম বলেন, ইউক্রেন পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। তাঁর দাবি, ‘শান্তির স্বার্থে ইউক্রেন ছাড় দিচ্ছে, আর পুতিন কেবল কথাই বলে যাচ্ছেন, নিরীহ মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছেন।’ সেনেটর গ্রাহাম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই বিলটি নিয়ে মার্কিন সেনেটে ভোটাভুটি হতে পারে।
রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার প্রথমবার ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত ইউরোপীয় প্রস্তাবগুলি সমর্থন জানিয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং ইউরোপের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে রাশিয়া ইতিমধ্যে স্পষ্ট জানিয়েছে, ইউক্রেনে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির সেনা মোতায়েন তারা কোনভাবেই মেনে নেবে না। এ বিষয়ে মস্কোর সমর্থনের কোন ইঙ্গিত এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যেসমস্ত দেশ বাণিজ্য করছে তাদের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতের নামও। গত অর্থবর্ষে ইরানের সঙ্গে অন্তত ১৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে ভারত। সোমবার নিজস্ব সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে যেসমস দেশ বাণিজ্য করছে, তারা আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করতে গেলে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক গুণবে। এই নির্দেশ এখন থেকেই কার্যকারী।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post