চায়ের কাপে তুফান তোলার মতো খবর বটে। কী সেই খবর, সেটা জানাতেই এই প্রতিবেদন। তার আগে জানাতে হয়, কেন ভারত এই পদক্ষেপ করল? আসলে ভারতকে এই পথে হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছে। বাধ্য করেছেন বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। আমাদের পাঠকের নিশ্চই মনে আছে যে তিনি একবার চিনে গিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট শিয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তাঁকে বাংলাদেশে আসার জন্য আমন্ত্রণ করেছিলেন। শুধু কি আমন্ত্রণ? তাঁকে গর্ব করে বলতে শোনা যায় যে ‘We are the Gurdian of Ocean’.
ব্যাপারটা এই পর্যন্ত থাকলে ঠিক ছিল। কিন্তু তিনি যে একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেন। আসলে মানচিত্র সম্পর্কে কারও যদি জ্ঞানগম্যি না থাকেত তাহলে যা হওয়ার কথা সেটাই হয়। ভারতের মানচিত্রটা একবার কল্পনা করা যাক। বাংলাদেশকে তিনদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে। বাকি একদিকে মায়ানমার ঘিরে রেখেছে। বাকি ছিল দক্ষিণের এক ফালি অংশ – বঙ্গোপসাগর। আর তা নিয়ে তদারকি সরকার প্রধানের কি গর্ব। তিনি চিনের প্রেসিডেন্ট শিকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখল করার কথা। মানে, চিন শিলিগুড়ি করিডোর দখল করবে। পরে, চিন ওই শিলিগুড়ি করিডোর ব্যবহার করে বাংলাদেশে তাদের পণ্য পাঠাবে।
আসলে স্বপ্ন দেখতে সবাই ভালোবাসে। তদারকি সরকার প্রধানও স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর ধারণা হয়েছিল, তিনি যেটা স্বপ্নে দেখেছেন, সেটা কোনও না কোনও দিন অবশ্যই বাস্তবে কার্যকর হবে। কিন্তু কেউ যদি স্বপ্নে হাতির পাঁচ পা দেখে, তাহলে তো বাস্তবে হাতির পাঁচ পা হবে না। কেউ স্বপ্ন দেখতে পারেন যে ব্যাং মানুষের মতো হাঁটছে। ঘোড়া কোকিলের মতো গান গাইছে। এমন অনেক কিছু অবাস্তব জিনিস স্বপ্নে দেখা যায়। কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবের মধ্যে যে ফারাক রয়েছে, সেটা তাঁকে কে বোঝাবে?
ভারত কিন্তু একটা বিষয় বুঝে গিয়েছে, চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকা মানে মুর্খামি করা। তাই, সাউথব্লক নিজেদের আরও নিরাপদ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের বুকে চিনা ড্রাগনের দাপাদাপি আর ওপার বাংলায় রং বদলানো রাজনীতির ঘনঘটার মাঝেই বড়োসড়ো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক দিল্লির। খাস পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় এবার ঘাঁটি গাড়ছে ভারতীয় নৌসেনা। উদ্দেশ্য পরিষ্কার উত্তর বঙ্গোপসাগরে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করা এবং চিন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ অক্ষের ওপর নজরদারি চালানো। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা সূত্রে এমনই খবর সামনে এসেছে। এখনও পর্যন্ত যে খবর পাওয়া গিয়েছে, সেই অনুযায়ী, হলদিয়ায় যে নৌসেনা ঘাঁটি গড়ে তোলা হবে, যা আসলে একটি ‘ডিট্যাচমেন্ট’। অর্থাৎ অল্প সংখ্যক অল্প সংখ্যক কর্মীই মোতায়েন থাকবেন। নিরাপত্তা, পরিবহণ সংক্রান্ত কাজকর্ম খতিয়ে দেখবেন এঁরা। পাশাপাশি, নির্জন স্থানে উপস্থিতি বজায় রাখবেন। নৌবাহিনীর মূল ডিউটি থেকে এঁদের ডিউটি হবে আলাদা। বিশেষ কাজেই নিযুক্ত থাকবেন।
কী থাকছে এই ঘাঁটিতে? এখানে মোতায়েন করা হচ্ছে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট। ৩০০ টনের এই জলদানবগুলি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল গতিতে ছুটতে পারে। চোখের পলকে শত্রুর ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলবে ভারতীয় সেনা। শুধু গতি নয়, এই রণতরীগুলিতে থাকছে CRN -91 বন্দুক, নাগাস্ত্র-য়ের মতো লয়টারিং মিউনিশন বা আত্মঘাতী ড্রোন। বঙ্গোপসাগরের উত্তরভাগে নিজেদের অবস্থা বজায় রাখতে উপকূলীয় নিরাপত্তায় জোর দিতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে। কারণ, সাগরে যেভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চিনের নৌবাহিনী, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সখ্য যেভাবে বাড়ছে তাতে এই পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছে দিল্লি।












Discussion about this post