আরও একবার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ভারতের। আর অবধারিতভাবে বাংলাদেশের বুকে।
এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’ একটি গুলিও দিল্লিকে খরচ করতে হয়নি। পড়েনি রক্ত। কারও মৃত্যু হয়নি। অথচ সেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ধাক্কায় থরথর করে কাঁপছেন ইউনূস। এভাবে কেঁপে ওঠাই স্বাভাবিক। কারণ, সাউথব্লক যে এই রকম একটা অপারেশে চালাতে পারে, সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তিনি। ফলে, ‘স্যার’ পডে়ছেন আঁতান্তরে। এমনিতেই তাঁর দিন ঘনিয়ে এসেছে। আর মাত্র কয়েকদিনের জন্য তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন। তাঁর জীবনের শেষ বসন্ত আরও রঙিন, আরও প্রাণবন্ত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দিল্লিতে যে পঞ্চপাণ্ডবের একটি পাণ্ডব তাঁকে বাকি দিনগুলিতেও স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। তাঁর সর্বশেষ পদক্ষেপে ইউনূস এখন খালি ভাবছেন, এর পরে কী? শেষ পর্যন্ত ভারত তাঁকে গদি থেকে টেনে নামাবে? অতদূর থেকে আমেরিকার আসার দরকার হবে না। এমনিতে গত ১৫-১৬ মাসে সাউথব্লকের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপে তাঁর রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। দিনেও একটু স্বস্তিতে থাকার জো নেই। কথায় আছে না শেষের সেদিন বড়ো ভয়ঙ্কর। তদারকি সরকার প্রধান এখন সেটা বেশ বুঝতে পারছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন ৷ তার আগে শনিবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মা ৷ একদিন আগে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করেছে ৷ তার পরপরই এই সাক্ষাৎ এই বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেলের মুখপাত্র সায়রুল কবির খান বলেন, “দু’জনের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বৈঠক হয়েছে ।” যদিও বিএনপি এটিকে একটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই দাবি করেছে । সূত্রের খবর অবশ্য বলছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে । সূত্র মারফৎ আরও জানা যাচ্ছে, বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন । ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখন প্রায় বিলুপ্ত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতেই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৷ তার আগে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে তা স্পষ্ট ৷ এমনকী বিএনপির একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু তথা জোট সঙ্গী জামায়াতে ইসলামিই এখন তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী । যেখানে আওয়ামী লীগের কোনও শক্তিই সেভাবে নেই বাংলাদেশে ৷ এই অবস্থায় নির্বাচনে বিএনপি যে যথেষ্ট ভালো জায়গায় আছে তা একরকম স্পষ্ট ৷
বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, বেলা তিনটার দিকে প্রথমে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস।
এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। সন্ধ্যা ছয়টায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন। পরে সন্ধ্যা সাতটায় মিসরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির গুলশান কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করলে কী ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবে, দেশের মানুষকে নিয়ে কীভাবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক নীতি কী ধরনের হবে, সেসব বিষয় নিয়ে আলাপ–আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন। কূটনীতিকদের স্বাগত জানান দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক। বৈঠকে পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। দ্বিপাক্ষীক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় হয়।












Discussion about this post