একটা দেশে আইনের শাসন না থাকলে কী হয়, তার একাধিক নমুনা গত কয়েক মাস ধরে আমরা দেখেছি। একথায় যাকে বলে মবিক্র্যাসি। আসলে যে দেশের সরকারটাই অবৈধ, সেই দেশে আইনের শাসন মানে যে সোনার পিতলা কলস, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সরকার নিজেই তো রক্ষকের পরিবর্তে ভক্ষকে পর্যবসিত হয়েছে। গর্বের সেনাবাহিনীকে দেশবাসীর কাছে পরিহাসের পাত্র করে তুলেছে একটি দেশের সরকার। সরকারের কাজ এখন দুটো। প্রতিবেশীর সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করা। আর সমান্তরালভাবে দেশটাকে রসাতলে পাঠিয়ে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতি ডুবেছে। কর্মসংস্থান নেই। দেশ কার্যত দেউলিয়া। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার, বিশ্বব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে তারা বাংলাদেশকে নয়াপয়সা দেবে না। নতুন যে সরকার আসবে, সেই সরকারের সঙ্গে তারা ঋণনীতি নিয়ে আলোচনা করবে। হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া সেই দেশটার পাশে কেউ নেই। এত কিছুর পরেও একটি সরকার নিজেদের শোধরানোর প্রয়োজন বোধ করে না। তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বর। আদালত চত্বরে ঘটে গেল লজ্জাজনক ঘটনা। ছাত্রদল এবং বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে যায়। লজ্জাজনক ঘটনাটি ঘটে বুধবার ১৪ জানুয়ারি, বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ। ঠিক এক মাস আগে গত ১৪ ডিসেম্বর প্রায় একই রকমের একটি ঘটনা ঘটে। ওই দিন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের সামনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন পুলিশের এক প্রাক্তন কর্মকর্তা। পরে পরিস্থিতি সামাল দেন বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা।
আদালতে যৌতুক মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন সজীব মিয়া নামে এক যুবক। এলে তাকে ছাত্রলীগ বলে আটক করার চেষ্টা করে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ছুটে এসে জোর করে সজিবকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান ও তার কয়েকজন অনুসারী আদালত প্রাঙ্গণে সজীব মিয়াকে ঘিরে ধরেন। তাকে ছাত্রলীগ নেতা উল্লেখ করে ওই যুবকের শার্টের কলার চেপে হেনস্তা করে তারা। একসময় তাকে মারধর করতে উদ্যত হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আইনজীবীরা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাধা দেন।
বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজিব মণ্ডল বলেন, সানু আক্তার শান্তা নামে একটি মেয়েকে সজিব নামে এক ছেলে এক লাখ টাকা কাবিন দিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জানতে পারেন সানু আক্তার শান্তার পূর্বে আরো চারটি বিয়ে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে সজিবের বিরুদ্ধে সানু আক্তার শান্তা বিভিন্ন ধারায় ঢাকা কোর্টে চারটি ও নারায়ণগঞ্জ কোর্টে একটি যৌতুক মামলা করেন। সেই যৌতুক মামলায় সজিব নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে হাজিরা দিয়ে কোর্ট এজলাসের সামনেই মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন সানু আক্তার শান্তা ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহানকে দিয়ে আদালতপাড়ায় মব সৃষ্টি করে সজিবকে মারধর করে টেনেহিঁচড়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। প্রকৃত ঘটনা জানার পর ছাত্রদল নেতাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে এটি কি ঠিক হয়েছে, তখন সে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সজিবকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের প্রাক্তন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান বলেন, ‘সে ছাত্রলীগ করত। সেই প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। তাকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দিতে গেলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বাধা দেন। সেই সাথে তারা ওই ছাত্রলীগ নেতাকে ছেড়ে দিয়ে আমাকে হেনস্তা করেন এবং মারধর করার চেষ্টা করেন। পরে আমার পরিচয় দিলে তারা আমাকে ছেড়ে দেন।’’
ছবি সৌজন্যে কালের কণ্ঠ












Discussion about this post