বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারত তিনটি সেনাঘাঁটি চালু করেছে। এবার খবর এল পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এই নিয়ে চরম কানাঘুসো চলছে সব মহলে। প্রশ্ন উঠছে সীমান্তে আসলে কী করতে চাইছে ভারত?
ইতিহাসের সব চেয়ে খারাপ অবস্থায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক। প্রশ্ন সীমান্তে হঠাৎ করেই যুদ্ধের দামামা না কি অন্যকিছু? প্রশ্নটা কেবল আর চায়ের কাপের মধ্যে সীমাব্ধ নেই। সাধারণ মানুষের চোখে এই নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ৫ অগাস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতির পট পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারত সামরিক দিক থেকে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে। এগুলি মোটেই কিন্তু কাকতালীয় কোনও ঘটনা নয়। পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরার মতো বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে পরিত্যক্ত সেনা ছাউনিগুলি সংস্কারে হাত দিয়েছে। এই সব সেনাছাউনিগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। ৮০ বছর ধরে পড়ে থাকা রানওয়েতে জং ধরে গিয়েছে। সেই সব কিছু এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সংস্কার শুরু হয়েছে। ভারত বড়ো কিছু প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই মত সংশ্লিষ্টমহলের।
দিল্লির সাউথব্লকের কর্তারা বলছেন, এর সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের কোনও সম্পর্ক নেই। সব কিছু করা হচ্ছে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে। সাধারণ যাত্রীদের সুবিধের জন্য বালুরঘাট, মালদহ কিম্বা অসমের রূপসী বিমানবন্দর চালু করা হচ্ছে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা বড়ো রহস্যময়। সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বেসামরিক বিমান চলাচলের আড়ালে পুরো দস্তুর সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে ভারত। লালমনি হাটের ঠিক এপারে কুচবিহার এবং জলপাইগুড়ি। এখানকার পুরোনা বিমানঘাঁটি গুলি সংস্কারের কাজে হাত দেওয়ার উদ্দেশ্য একটা। প্রয়োজনে জরুরী ভিত্তিতে এই সব বিমানবন্দরগুলিকে যাতে সামরিক কাজে ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজনে যাতে ভারী ধরনের যুদ্ধবিমান বা ভারী সামরিক কার্গো সেখানে নামতে পারে, তার জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে প্রয়োজনী পরিকাঠামো।
এবার একটু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ফিরে তাকানো যাক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান যখন বর্মা দখল করে ভারতের দিকে এগোতে থাকে, তখন ব্রিটিশ মিত্রশক্তি এই অঞ্চলে এক বিশাল বিমানঘাঁটির নেটওয়ার্ক তৈরি করে। উদ্দেশ্য ছিল চিন –বর্মা-ভারত রণাঙ্গনে রসদ ও সেনা পাঠানো। যুদ্ধশেষে জাপানিরা পিছু হঠলে এসব ঘাঁটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। আজ এত বছর পর সেই সব মৃত ঘাঁটিগুলিতে প্রাণ সঞ্চার করতে চাইছে ভারতীয় সেনা। পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাট, মালদহের ঝলঝলিয় এবং অসমের ধুবড়ি- এই সব জায়গাগুলির অবস্থান মানচিত্র দেখলে সকলেই চমকে উঠবেন। এগুলি বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছে। এখান থেকে যে কোনও ফাইটার জেট খুব কম সময়ে বাংলাদেশ সীমানা অতিক্রম করে যাবে। সব চেয়ে উদ্বেগের বিষয় চিকেন নেক কে কেন্দ্র করে ভারতীয় সেনার অতি সক্রিয়তা। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সাতটি রাজ্যকে সংযুক্ত করেছে এই শিলিগুড়ি করিডোর। চওড়া মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। ভৌগলিক এবং কৌশলগতভাবে ভারত এই জায়গাটি নিয়ে সব সময় তটস্থ থাকে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় দিল্লি বেশ নিশ্চিন্তে ছিল। কিন্তু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন একেবারেই মধুর নয়। তাই, সাউথব্লক আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চাইছে। ভারতের আশঙ্কা কোনও কারণে এই করিডোর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে উত্তরপূর্ব ভারত পুরোপুরি হাতছাড়া হয়ে যাবে। এই আশঙ্কা থেকেই তারা চিকেন নেক কে দুর্ভেদ্য দূর্গে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরু জাগি বাসু কিছুদিন আগে বলেন, এই সরু গলাটিকে আরও শক্তিশালী এবং প্রশস্ত করতে হবে। কিন্তু সেটা তো টেনে লম্বা-চওড়া করার সুযোগ নেই। তাই, সামরিক দিক থেকে ভারত এই স্পর্শকাতর জায়গাটিকে ঘিরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post