কক্সবাজার।
কেন্দ্রটি বিএনপির দুর্গ বলেই পরিচিত। দল এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে সালাহউদ্দিন আহমেদকে। এই আসনটিকে বলা হত জিয়াদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি। সেই দুর্গে ঢুকে পড়েছে জামায়াত। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কক্সবাজারের মাঠের চিত্র কিন্তু এমনই এক ভয়াবহ সংকেত দিচ্ছে। নয়টি উপজেলা এবং চারটি পুরসভা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার। বিগত নির্বাচনে জোটবদ্ধ নির্বাচনে চারটি আসনের প্রত্যেকটিতে বিএনপি-জামাতের প্রার্থী জয়ী হওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু এবার সেই চিত্রের বদল ঘটতে চলেছে।
বিএনপি এবং জামাত প্রার্থীরা এবার পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তার কতটা ছাপ রাখতে পারবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপির দুর্গ দখলে নিতেই মাঠে কাজ করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। কক্সবাজার – (চকরিয়া এবং পেকুয়া)। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের প্রথম মেয়াদের সহকারী একান্ত সচিব ছিলেন। সেখান থেকে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে। সালাহউদ্দিন আহমেদকে একবারের জন্য হারের মুখ দেখতে হয়নি। আওয়ামী লীগের ১৬ বছর বাদ দিলে তার আগের একটি নির্বাচনেও তাঁকে হারতে হয়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে নেই। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চাইছে বিএনপি। কিন্তা তাদের ভাগে থাবা বসিয়েছে জামায়াত। সালাহউদ্দিন আহমেদ ২০০৮-য়ের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। পরিবর্তে তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদকে প্রার্থী করে বিএনপি। তবে সালাহউদ্দিন কিন্তু জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়াবাসী আমাকে ভালোবাসেন। আমরাও ওনাদের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা আছে। ভোটের মাঠেই তার প্রতিফলন ঘটবে। আল্লাহর ওপর আমার বিশ্বাস রয়েছে। ’
জামাত এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে দলের তরুণ নেতা তথা কক্সবাজার শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক। বরাবরই সালাহউদ্দিন আহমেদকে এ আসনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে বিএনপি। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক জানান, কক্সবাজারে উন্নয়নে সালাহউদ্দিন আহমেদ একজন পরীক্ষিত নেতা। মানুষ তাঁকে ভালোবাসেন। এবারেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
তাকে টক্কর দিতে প্রস্তুত জামাতের তরুণ তুর্কি নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চকরিয়া-পেকুয়ায় মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করতে পেরেছে। তা অবশ্যই নির্বাচনের রায়ে দেখা যাবে। জামাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চকরিয়া-পেকুয়ায় তাদের ভোট ব্যাংক রয়েছে। ৫ অগাস্টের পর তাদের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। সেই হিসেবে অন্য দলের প্রার্থী যতই হেভিওয়েট হোক না কেন, ভোটের মাঠে জেতার লক্ষ্য কাজ করে চলেছেন।
এই আসনে এবি পার্টি দাঁড় করিয়েছেন অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামানকে। জাতীয় পার্টির তরফ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে শামসুল আলমকে। ইসলামী আন্দোলন এই কেন্দ্রে দাঁড় করিয়েছে মাওলানা মনির উল্লাহকে। এনসিপি প্রার্থী করেছে মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনকে। গণঅধিকার পরিষদ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে আব্দুল কাদের প্রাইমকে। প্রায় একই চিত্র কুমিল্লা ১১ আসনে। সব কটি আসনেই বিএনপির ঘরে ভাগ বসাতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। পাঁচটি আসনে দ্বিমুখী এবং বাকি আসনগুলিতে ত্রিমুখী লডা়ইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে, কুমিল্লা – ২, ৪, ৬, ৭, ৯ এবং ১০ আসনে। কুমিল্লা – ১১ আসনে জামাতের আধিপত্য রয়েছে। এর সঙ্গে তারা আরও ২-৩টি আসন যোগ করতে মরীয়া হয়ে কাজ করছে।












Discussion about this post