আর মাত্র কয়েকদিন পরই শেখ হাসিনা-হীন বাংলাদেশে ভোট হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একইদিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট হতে চলেছে। তার আগেই বাংলাদেশে পা রেখেছেন নব নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়ে গত ১২ জানুয়ারি ঢাকায় আসার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এই প্রথম মতবিনিময় করলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। তিনি বলেন, আমি আমাদের উভয় দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এবং আগামী মাসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি। ফেব্রুয়ারিতে এ দেশের জনগণ যে সরকারকে নির্বাচন করবে, তাদের সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারব বলে আমি আশাবাদী। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে, চিন সম্পর্কে তাঁর মনোভাব। তিনি বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশে আমি সব বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখব, সেটা অন্তর্বর্তী সরকার হোক বা নতুন নির্বাচিত সরকার হোক। এখানে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চিনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, সেটা আমি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ অক্টোবর মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সামনে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সেখানেই তিনি বাংলাদেশি সাবমেরিন ঘাঁটির সংস্কারে চিনের সম্পৃক্ততা এবং ঢাকার ২০টি চিনা জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন সিনেটের কাছে তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে চিনা প্রভাব সম্পর্কে আপনাদের উদ্বেগের সঙ্গে আমিও একমত। আমার নিয়োগ নিশ্চিত হলে আমি বাংলাদেশ সরকার এবং তাঁদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করব যাতে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে চিনা কার্যকলাপ এবং তাঁদের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ঝুঁকিগুলোর ব্যাপারে স্পষ্ট করা যায়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েই সেই কাজে নেমে পড়েছেন। যা এখন ঢাকার অন্যতম মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগেও ইউনূসের প্রশাসন চিনের সঙ্গে ৬০৮ কোটি টাকায় বাংলাদেশে একটি সামরিক ড্রোন তৈরির কারখনা তৈরির চুক্তি করেছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ হওয়ার কথা নয়। এই আবহে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ইঙ্গিত যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।
সূত্রের খবর, ঢাকায় পা রেখেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসনের চিনা ঝুঁকি নিয়ে করা মন্তব্যে বেজায় চটেছে বেজিং। মার্কিন দূতের বক্তব্যের পর পাল্টা বাংলাদেশে চিনা দূতাবাস থেকে একটি বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। তাতে কার্যত আমেরিকাকে তুলোধোনা করা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলেছে বেজিং। তাঁদের দাবি, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর গত ৫০ বছরে চিন ও বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সমর্থন করেছে, সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতায় যুক্ত হয়েছে। বেজিংয়ের কথায়, এই সহযোগিতা আঞ্চলিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলের একাংশ এই বিষয়ে সিঁদূরে মেঘ দেখতে পাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন এর আগে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে কাজ করে গিয়েছেন। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, সেসময় বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিলেন শেখ হাসিনা। ব্রেন্ট বলেছিলেন, বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সঙ্গেই তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক এবং সে দেশের রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও অটুট। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং সেনাবাহিনীর একটি অংশ চিন ও পাকিস্তানের থেকে বিপুল পরিমান চিনা অস্ত্র এবং যুদ্ধবিমান কেনার যে তোড়জোড় করছে তা নিয়ে খুব একটা খুশি নয় ওয়াশিংটন। তা অকপটে স্বীকার করেছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। সাম্প্রতিক এক মতবিনিময় সভায় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, ‘এটি সেই বাংলাদেশ নয়, যেটি আমি ২০২১ সালের জুনে ছেড়ে গিয়েছিলাম। এ সময়ে আবার ফিরে আসা আমার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেমনটি আমি আমার শুনানিতে বলেছিলাম, দেশটি এখন প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি দাবি নিয়ে জোর চর্চা চলছে বাংলাদেশে। সেটা হল, তিনি বলেছিলেন আমরা নির্বাচিত, অনির্বাচিত সব পক্ষের সঙ্গেই কথা বলি। সকলের সঙ্গেই কথা বলার আমাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এর অর্থ হল, বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গেও তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে। আসলে এই বার্তা মুহাম্মদ ইউনূসের জন্যই ছিল, এটা বুঝতে কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্যও এটা একটা স্পষ্ট বার্তা। চিন নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র বা তাঁদের বন্ধু দেশের দিকে ঝুঁকতে হবে, না হলে বিপদ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post