“ না কি এ শরীরের পাপের বীজাণুতে / কোনোই ত্রাণ নেই ভবিষ্যের? / আমারই বর্বর জয়ের উল্লাসে/ মৃত্যু ডেকে আনি নিজের ঘরে?”
বাবরের প্রার্থনা, শঙ্খ ঘোষ
২০২৪-য়ের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের পর তিনি প্রথম পেয়েছিলেন জয়ের স্বাদ। এই রাজনৈতিক জয় তাঁর প্রাপ্য ছিল না। প্রাপ্য বা কাঙ্খিত হওয়ার কথাও নয়। কারণ, একটি নির্বাচিত সরকারকে তিনি ছলে-বলে-কৌশলে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। সেই জয় যে একদিন তাঁর ঘরে ‘মৃত্যু’কে ডেকে নিয়ে আসবে, সেটা তিনি বুঝতেও পারেননি। আসলে তাঁর শরীর অনেকদিন আগেই ‘পাপের বীজাণুতে ভরে গিয়েছে।’ আর সেটা দিল্লি থেকে একজন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। বলা যেতে পারে শেষবারের মতো। আর সেটা দৃশ্যমান হল দেশ যখন সন্ধিক্ষণে।
অনেকে বলছেন, এটা আসলে মাস্টার্স স্ট্রোক। তাঁর শরীর রাজনীতির আগুনে একাধিকবার পুড়লে তাঁকে শেষ করতে পারেনি। শেষ করবেই বা কী করে? আগুনের সেই ক্ষমতা নেই। তিনি যে মুজিব কন্যা। বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও মাথা সোজা করে দাড়িয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস সেই উত্থান-পতনের সাক্ষ্য বহন করে। তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেনি। দল যাতে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। দলের প্রতীক ফ্রিজড করে দেয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তারা কোনওভাবেই বঙ্গবন্ধু কন্যার মুখ বন্ধ করতে পারেনি। তাঁর অদম্য মানসিকতার সঙ্গে লডা়ই করতে গিয়ে তাদের হারতে হয়েছে। একবার নয়, একাধিকবার। অন্তর্বর্তী সরকারের এটাই যে শেষ বসন্ত, সেটা সকলেই জেনে গিয়েছে। কিন্তু এ বসন্ত যে রোদনভরা। ‘দক্ষিণ সমীরে দূর গগনে / একেলা বিরহী গাহে বুঝি গো।’
শেষ বসন্তকে আরও বেদনাতুর করে তুললেন শেখ হাসিনা, দিল্লিতে বসে। দিল্লিতে থাকাকালীন হাসিনা একাধিকবার গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। শোনা গিয়েছে তাঁর অডিও বার্তা। কিন্তু সেই সব অডিও বার্তার থেকে ২৩ জানুয়ারির অডিও বার্তার ফারাক আকাশ-পাতাল। সোমবার যে কথাগুলি তিনি বলেছেন, অতীতেও তা শোনা গিয়েছে। কিন্তু সোমবারের অডিও বার্তা ছিল শাণিত। কথার তলোয়ারে তদারকি সরকারকে শতটুকরো করেছেন। ভারতের একটি গণমাধ্যমকেও তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকারে হাসিনা বহু বিষয়ে কথা বলেছেন। আর অডিও বার্তায় তিনি পাঁচটি বিষয়ে কথা বলেছেন। সেই পাঁচটি বিষয় হল গণতন্ত্র, ইউনূস সরকার, দলের পাঁচ দফা দাবি, জাতিসঙ্ঘের হস্তক্ষেপ আর সর্বশেষ হল দলের জন্য তাঁর বার্তা।
গণতন্ত্র প্রসঙ্গে হাসিনার অভিমত, “বাংলাদেশ আজ সন্ত্রাসের যুগে ঢুকে পড়েছে। গণতন্ত্র নির্বাসনে। পদদলিত মানবাধিকার। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ধ্বংস করা হয়েছে। অস্বাভাবিক হারে দেশে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন। ধর্ষণ এখন প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ” ইউনূস সরকারকে ‘অবৈধ’ ও ‘বিদেশি শক্তির মদতপুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, “এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশে কখনই অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়।” বঙ্গবন্ধু কন্যার কথায়, ‘Human rights have been trampled into the dust. Freedom of the press has been extinguished. Violence, torture, and sexual assault against women and girls remain unchecked.’
হাসিনা যে পাঁচ দফা দাবি করেছেন, সেই সব দাবিগুলি হল ক) ইউনূস সরকারের অপসারণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, খ) অবিলম্বে হিংসা ও নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে, গ) নারী, সংখ্যালঘু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও সাংবাদিকদের নিপীড়ন বন্ধ করা, ঙ)বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার। বর্তমানে আওয়ামী লিগের বহু শীর্ষ নেতা ভারত ও ইউরোপে নির্বাসনে রয়েছেন। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার এই তীব্র ভাষণ বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post