‘They do not moderate the State. They seek to reshape it in their own image.’
খুব সংক্ষিপ্ত কথা। কিন্তু তাঁর অভিঘাত গভীর। বাক্যটির বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় – মূল ধারার রাজনীতিতে চরমপন্থীদের জায়গা দিলে বা পুনর্বাসন দিলে তারা রাষ্ট্রকে কখনও মধ্যপন্থার সহনশীল চরিত্রে থাকতে দেয় না। এই চরমপন্থীরা দেশ থেকে বহুত্ববাদকে সমূলে বিনষ্ট করে। বহুত্ববাদের শেষ চিহ্নটা পর্যন্ত তারা রাখতে দেয় না। কথাটি বলেছেন হাসিনা, দেশবাসীর উদ্দেশ্যে।
ভারতের একটি জনপ্রিয় গণমাধ্যম শেখ হাসিনার বিশেষ সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি একাধিক বিষয়ে কথা বলেন। কথা বলেছেন, বাংলাদেশের আসন্ন ভোট নিয়ে। হাসিনা জানিয়েছেন, ‘ভোটের আগে বাংলাদেশে ভয়-ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে তিনি বিএনপি এবং জামাতের নাম উল্লেখ করেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার মতে, বাংলাদেশে যে পরিবেশে ভোট হতে চলেছে, সেই পরিবেশে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এটা কোনওভাবেই আশা করা যায় না। ভোটারদের তাদের পছন্দের মতো প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ করে না দিলে নির্বাচন কোনওভাবেই বৈধ হতে পারে না। বিএনপি এবং জামাতের লোকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য কার্যত হুমকি দিচ্ছে।’
কেন আওয়ামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁর ব্যাখ্যা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। বলেছেন, ‘তদারকি সরকার ভালোভাবেই জানে যে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দিলে তারা বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হবে। সে কারণে আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এটা কিন্তু কোনওভাবেই ভুলে গেলে চলবে না যে ইউনূসকে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেয়নি। কিন্তু তারপরেও তিনি ক্ষমতায় বসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সব অবৈধ কার্যকলাপকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
জুলাই অভ্যুত্থান নিয়েও হাসিনা তাঁর মতামত জানিয়েছেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানিয়েছিলাম। যে দাবিতে তাদের ওই আন্দোলন, তা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। আমরা ওদের দাবির কথা শুনেছি। তাদের সেই দাবি পূরণের জন্য আমরা সচেষ্ট ছিলাম। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? ছাত্রদের আন্দোলনকে বিশেষ একটি গোষ্ঠী ছিনতাই করে নিল। যে আন্দোলন একসময় ছিলে আপাত শান্ত, সেই আন্দোলন বদলে গেল হিংসায়। পুলিশ স্টেশনে হল হামলা। সরকারি প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হল হামলা। এই অবস্থায় একটি দায়িত্বশীল সরকারের যে ভূমিকা পালন করার কথা, আমরা সেটাই করেছি। না হলে আরও বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ’
বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তদারকি সরকার প্রধানকে তুলোধনা করেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘দেশে চরম নৈরাজ্য চলছে। আইনের শাসন একমাত্র তখনই পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব, যদি সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটা অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হতে পারে।’ ভোটের আর বেশি বাকি নেই। তাই, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণও সম্ভব নয়। ফলে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এটা কোনওভাবেই বলা সম্ভব নয়। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশে নির্বাচন শেষে একটি সরকার গঠিত হলেও তার স্থিতিশীলতা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থাকছেই। হাসিনার ভাষণ থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তা হল আওয়ামী লীগ একমাত্র দল, যে দলের হাতে ক্ষমতা গেলে বাংলাদেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। কারও কারও মতে, আওয়ামী লীগ নেত্রীর শুক্রবারের ভাষণ শুনতে এত মানুষের আগ্রহ থেকে স্পষ্ট যে নির্বাচনে তাঁর দলকে অংশ নিতে না দিলেও তাদের কর্মী-সমর্থকদের দলের প্রতি আনুগত্য এখনও অটুট। ফলে, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দিলে ফলাফল কী হতে পারতো হাসিনার ভাষণ ঘিরে আগ্রহ তা নিয়ে বড়ো প্রশ্ন তুলে দিল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post