ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে। কিছুদিন আগেই শুল্ক নিয়ে ভারত আমেরিকার মধ্যে একটি লড়াই চলছিল। কিন্তু সেটি বর্তমানে স্থিত হয়েছে। আমেরিকা ভারতের উপর থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক নামিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্ক যে স্বাভাবিকের দিকে গেল, সেটা স্পষ্ট। যখন। ভারত আমেরিকার সম্পর্ক স্বাভাবিকের দিকে চলে গেল, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কি প্রভাব ফেলবে? কারণ সেখানে আর কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচন।
ট্রাম্প মোদীর ম্যাজিক। ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে দুই দেশ। এক লাফে ভারতের শুল্ক কমে দাঁড়াল ১৮ শতাংশে। ইতিমধ্যেই ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সরজিও গোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে। এরপরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় উন্নতির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে। এরমধ্যে অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর টেলিফোনে কথা হয়েছে। এরপরই এই সিদ্ধান্তের কথা প্রথম ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। এই ঘোষণাকে মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগককে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আজ আমার প্রিয় বন্ধু রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পেরে দারুন লাগছে। ভারতের তৈরি পণ্যের উপরে ১৮ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে আনা হয়েছে। এই চমৎকার ঘোষণার জন্য ভারতের ১৪০ কোটি জনগণের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ। অর্থাৎ দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকের দিকে এগিয়ে গেল। আরও উন্নত হবে,সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে পড়শী দেশ বাংলাদেশের উপর কেমন প্রভাব পড়বে? এই মুহুর্তের যে পরিস্থিতি তাতে, আমেরিকা জামায়েত ই ইসলামীর দিকে ঝুঁকেছে। ভারত বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে। আপাত দৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে। এইবার কি সেই প্রেক্ষাপট খানিকটা পরিবর্তন হবে? ভারত আমেরিকা কি দুই দিকে না থেকে, একই দিকে আসবে?এই প্রশ্নগুলি যখন আসছে তখন, নিশ্চয়ই ভারত চাইবে আমেরিকাকে প্রভাবিত করতে। এক্ষেত্রে বিএনপি যে লাভবান হবে। সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এক্ষেত্রে বলাই বাহুল্য যে, আওয়ামী লীগকে ব্যাকডোরে রাজনীতি করতে দেওয়ার একটা চাপ আসবে বিএনপির উপর। এরই মাঝে হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় কলকাতার একটি প্রকাশনা উৎসবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন,আমেরিকা বাংলাদেশে একটি পুতুল সরকার চাইছে। যাতে আমেরিকা নিজের ইচ্ছা মত কাজে লাগাতে পারে। এমনকি তিনি খানিকটা তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, তাঁকে চাইছে আমেরিকা। যাতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা হয় আমেরিকার। বিএনপি প্রথম থেকে গণভোটের বিপক্ষে ছিল। কিন্তু পরে আমেরিকার প্রেসক্রিপশনে গণভোটের পক্ষে গিয়েছে তারা। এমনটা উল্লেখ করেছেন হাসিনা পুত্র। অর্থাৎ আমেরিকার ডিপ স্টেট এখনও বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাথা ঘামাচ্ছে, সেটা স্পষ্ট। অত্যন্ত তেমনই বলার চেষ্টা করছেন জয়। এদিকে সামনেই নির্বাচন। এখন দেখার, ভারত আমেরিকার সম্পর্কের উন্নতিকরণে আদতে বাংলাদেশ কীভাবে প্রভাবিত হয়! কারণ ভারতের কাছে দক্ষিণ এশিয়ার পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে সেটার স্পষ্ট। সার্জিও গোরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ এশিয়া দেখার জন্য। এদিকে আমেরিকাও ভারতের দিকে। ফলে পরিস্থিতির দিকে ক্রমশ নদর রাখছে কূটনৈতিক মহল।












Discussion about this post