কিস্তিমাত।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সই হওয়ার পরেই ভারত-মার্কিন সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হল। মঙ্গলবার মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওয়াশিংটনে বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও। সূত্রের খবর, দু’পক্ষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাণিজ্য, শক্তি, পারমাণবিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইন নিরাপত্তা।এই চুক্তির নাম ‘Common interest in South Asia, Central Asia Quad Bay of Bengal Indo Pacific agreement 2006.
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (critical minerals)বিষয়ক প্রথম মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকের আগেই এই সাক্ষাৎ হয়, যা দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, মার্কো রুবিও এবং এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, দুই দেশের নেতৃত্ব এই বিষয়ে একমত যে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত ও আমেরিকার একসঙ্গে কাজ করা নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং যৌথ জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
চুক্তির সইয়ের পর যৌথ বিবৃতি পাঠ করা হয়। বৈঠকের পর এক্স পোস্টে জয়শঙ্কর লেখেন, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ‘উপকারী আলোচনা’ হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী পরে সাংবাদিকদের বলেন, এই চুক্তিতে রয়েছে আকাশ এবং সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, অর্থায়ন হলে ভারত ও আমেরিকা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করতে পারে। এই চুক্তির আওতায় ভারত বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং পাকিস্তানের ওপর নজরদারি চালাতে পারবে। চুক্তির দৌলতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দায়িত্ব ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, এখানে উপস্থিত ৫৫টি দেশের প্রতিনিধি রয়েছেন। রয়েছে ভারতের ঘনিষ্ট দেশের প্রতিনিধিরা। আমাদের আশা এই ৫৫টি দেশ এই চুক্তির বিষয়ে একমত হবেন। কথা বলেছেন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়েও। বিদেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে রয়েছে একটি অবৈধ সরকার। সেই সরকারের তত্ত্বাধানে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হতে চলেছে। ভারত এই ভোটকে স্বীকৃতি দেয় না। ভারত সমর্থন করে না। বক্তব্যকে সমর্থন করেন মার্কো রুবিও। মার্কিন বিদেশ সচিব বলেন, বাংলাদেশে চলছে নৈরাজ্য। নানা প্রান্ত থেকে পাওয়া যাচ্ছে খুন, ধর্ষণ, রাহাজানির মতো খবর। এই নৈরাজ্যের অবসান দরকার। বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গীকে আমেরিকা সমর্থন করে। রুবিও বলেন, ভারত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনে কাজ করে। ইন্দো প্যাসেফিক অঞ্চলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং সকল ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পূর্বের ন্যায় সর্বাত্মক সহযোগিতা, সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করবে সরকার। কৌশলগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থাকবে। প্রতি তিন মাস অন্তর এই চুক্তির মূল্যায়ন হবে।
প্রসঙ্গত, ২ ফেব্রুয়ারি রাতে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর এক দফা কথাও হয়। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন মোদি রাশিয়া থেকে তেল কিনবেন না বলে তাঁকে জানিয়েছেন। পরিবর্তে আমেরিকা থেকে আরও অনেকে বেশ তেল কেনার আশ্বাস দিয়েছেন। সম্ভবত ভেনেজুয়েলার থেকেও ভারত বেশি করে তেল কিনবে। এই চুক্তির আবহে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। সেই খবর হল মার্কো রুবিওর সঙ্গে হাসিনার টেলিফোনালাপ। কথা হয় ১৬ মিনিট। মার্কো রুবিও শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে দৃঢ় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post