বঙ্গভবন?
না কি যন্তরমন্তর ঘর?
বাংলাদেশের ভোট যত এগিয়ে আসছে, পদ্মাপারের এই যন্তরমন্তর ঘর যমুনাভবনে আশ্চর্য সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। এই সক্রিয়তা তৈরি করেছে রহস্য। হীরক রাজা সংলাপ ধার করে বলতে হয় -“দিন রাত্র না জানি কী করে, তার ওই যন্তরমন্তর ঘরে। সোনা, রূপা, তামা শিসা, লোহা – সাপ ব্যাং শকুনির ঠ্যাং – কী নাই সে ঘরে। হামান দিস্তায় পিসে ধাতু করে ছাতু, হাপরের চুল্লি জ্বেলে কী যে করো ভস্ম সে এক রহস্য”।
সত্যি রহস্য। ১২ তারিখ নির্বাচনকে ঘিরে সেখানে কোনও মহড়া চলছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওঠার কারণ রয়েছে। প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে দুটি ঘটনা। প্রথম ঘটনা ভোটের মুখে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে দেখা করেন গোলাম আজমের পুত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল্লাহিল আমান আযমি। তিনি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে দেখা করেছেন। গিয়েছিলেন গত মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি। আয়মী পরে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই সাক্ষাৎকারের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। রাষ্ট্রপতিকে তিনি বেশ কয়েকটি বই উপহার দিয়েছেন। সাক্ষাতের পর আযমী তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন,“আজ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেগিয়েছিলাম।আমারলেখা‘‘বিভীষিকাময়আয়নাঘর’’, আমার বাবাকে নিয়ে সচিত্র (প্রায় সোয়া দুই হাজার ছবি সংবলিত) বই ‘‘প্রেরণার পরশমণি’’ এবং আমার বাবার লেখা আত্মজীবনী ‘‘জীবনে যা দেখলাম’’ (৯ খণ্ড) উপহার দিয়ে এলাম। তিনি খুব আগ্রহ সহকারে নিলেন এবং উল্টেপাল্টে দেখলেন। ওনার মূল্যবান সময় থেকে আমাকে অনেক সময় দেওয়ার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”
হঠাৎ করে কী এমন দরকার হল আযমীকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে দেখা করতে হল? এই সাক্ষাতের কি কোনও প্রয়োজন ছিল? কেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে দেখা করে আযমী তাঁকে তাঁর এবং তাঁর বাবার লেখা বই উপহার দিতে গেলেন? বই উপহার কিন্তু আসলে একটি অছিলা। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আবদুল্লাহিল আমান আযমি দেখা করেছেন তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অতীতে এই রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বাংলাদেশ উত্তাল হয়েছিল। তাঁর পদত্যাগের জোরাল দাবি ওঠে। ঘেরাও করা হয়েছিল বঙ্গভবন। রাষ্ট্রপতি কিন্তু তাঁর অবস্থানে অনড় ছিলেন। সেই রাষ্ট্রপতিকে আযমি নিছক বই উপহার দেবেন বলে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন এটা ধরে নেওয়াটা ভুল হবে।
পাকিস্তানের তরফ থেকে এই আযমির পক্ষে জোর সওয়াল করা হচ্ছে। তাদের দাবি, গোলাম আজমের পুত্রকে যেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেটা সম্ভব না হলে নিদেন পক্ষে পরবর্তী সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রথম ঘটনার উল্লেখ করা হল। দ্বিতীয় ঘটনা জামায়াতে আমির শফিকুর রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া। এই ঘনটার সঙ্গেও জড়িয়ে গিয়েছে বঙ্গভবন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাঁর ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, হার্ডডিস্ক সহ অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী। যাবতীয় ঘটনর নেপথ্যে রয়েছে জামায়াতে আমিরের শনিবার এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্ট। পোস্টের ভাষা ছিল ইংরেজি। অভিযোগ, ওই পোস্টে মহিলাদের অসম্মান করা হয়েছে। জামাতের দাবি, দলের প্রধানের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক করে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। এই নিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে গিয়ে জামাতের একটি প্রতিনিধিদল অভিযোগ জানায়।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক সহ অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। হ্যাকের ঘটনার সঙ্গে সে কোনওভাবে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।












Discussion about this post