“সরকারের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের টানাপোড়েন থাকে। এটা পার্ট অব দ্য গেম। সব মিলিয়ে আমি যে খুব বেশি সমস্যায় পড়েছি – এটা বলি না। তবে সমন্বয়ের অভাব কখনও কখনও অনুভূত হয়েছে। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের ব্যাপারে as for as I am concern, আমার সাথে যারা দেখা করতে এসেছে, তারা জানতে চেয়েছে কেউ কেউ, সবাই না। কিন্তু কেউ কোনও ধরনের চাপ আমার ওপর সৃষ্টি করেননি যে এটা করেন বা আপনাদের উচিত এটা করা ইমিডিয়েটলি। এরকম কথা কেউ আমাকে কখনও বলেনি। ”
“আমরা আসলেই ভারতের সঙ্গে একটা good working relationon the basis of responsibility and mutual interest- এটা আমরা চেয়েছিলাম সবসময়। সফল হয়েছি এটা ঠিক বলতে পারি না। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই এটা…. অনেকটাই থমকে আছে। আমি বলব না যে বিরাট কোনও ক্রাইসিস সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সম্পর্কটা থমকে আছে। ভারত নিশ্চই তাদের স্বার্থ যেভাবে তারা চিন্তা করে সেভাবেই করেছে। আমরা আমাদের স্বার্থ যেভাবে রক্ষিত হবে বলে ভেবেছি, সেভাবে করেছি। দুটো ঠিক অনেক ক্ষেত্রেই মেলেনি। সরকারের উত্তরাধিকারী যে সরকার হবে, তাদের সময়ে আবার relations smoothel হওয়া যেটাকে বলে, মসৃণ একটা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়া। ”
এই বিবৃতি বাংলাদেশের বিদায়ী বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের। এখনই কি তাঁকে বিদায়ী বলা যেতে পারে? পদ্মাপারের হাওয়া কিন্তু সে কথাই বলছে। বলছে বাংলাদেশের ভোট নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জনমত সমীক্ষা। সেই সব সমীক্ষা এবং পদ্মাপারের ভোটের হাওয়ার কথা বিবেচনা করে বলা যে পারে, তৌহিদ হোসেনের এটা শেষ সাংবাদিক সম্মেলন। তৌহিদ হোসেনকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তার মধ্যে একটি আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত, দ্বিতীয়টি ভারত-বাংলাদেশর সম্পর্ক। প্রথম বিবৃতি আওয়ামী লীগকে নিয়ে, দ্বিতীয় বিবৃতি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে রেখে পরবর্তী সরকারে কীভাবে সম্পর্ক মসৃণ করতে পারে, এমন প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, আপনি তো নৈরাশ্যবাদী হতে পারেন না। আপনাকে আশাবাদী হতে হবে। আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি, এজন্য কোনো একটা পথ নিশ্চয় বের হবে; এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব হবে।শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে ভারতের মনোভাব জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনোভাব একটি বিমূর্ত বিষয়। মনোভাব নিয়ে কখনো কথা বলা উচিত নয়। অফিশিয়ালি যেটা করা হয়েছে সেটাই বলা যাবে। আমরা তাকে ফেরত চেয়েছি, তার রেসপন্স পাইনি। এর বাইরে আমাদের স্পেকুলেশনে যাওয়া ঠিক হবে না।
ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক যে আর আগের মতো নেই, সেটা অনেকদিন আগেই চোখে ধরা পড়েছে। এবার সেই অবনতি হওয়া সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নিলেন তৌহিদ হোসেন। তিনি এটাও স্বীকার করে নিয়েছেন, যে তিনি আশাবাদী। তাই, তিনি বিশ্বাস করেন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। সম্পর্কের অবনতির জন্য তৌহিদ হোসেন অবশ্য কাউকে দায়ী করেননি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাইছি না। ভারত নিশ্চই তাদের স্বার্থ যেভাবে চিন্তা করে সেভাবে করেছে। আমরা আমাদের স্বার্থ যেভাবে রক্ষিত হবে বলে ভেবেছি, সেভাবে করার চেষ্টা করেছি। অনেক ক্ষেত্রেই দুটি মেলেনি। ” তবে তাঁর আশা পরবর্তী সরকার নিশ্চই এই সম্পর্ক আরও মসৃণ করবে?
প্রশ্ন অন্যত্র ? তদারকি সরকার চাইলে তো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হার্দিক রাখতে পারতেন যেমনটা ছিল হাসিনা আমলে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। উল্টে ভারত-বিদ্বেষী নেতাদের প্রশ্রয় দিয়ে গিয়েছে। তারা ভারতের উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়েছেন। ভারতের সেভেন সিস্টার্স কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়ার কথা বলেছেন। তাদের বিরুদ্ধে তদারকি সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। উলটে তাদের মদত দিয়ে এসেছে। আর তদারকি সরকার তো ক্ষমতা রয়েছে দেড়ে বছরের বেশি। চাইলেই তো ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে পারতেন। তার জন্য তো কোনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। এখন বিদায় বেলায় এই স্বীকারোক্তি তো অর্থহীন।












Discussion about this post