বাংলাদেশে ভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসর অন্তত তেমনটাই জানিয়েছেন। এই ভোট নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার কারণও রয়েছে। নির্বাচনের ব্যাপারে তদারকি সরকারের বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিল না। একপ্রকার চাপে পড়ে ইউনুসকে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে হয়েছে। আর এই ঘোষণার পর থেকে বেশ মূলত দুটি প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। প্রথম প্রশ্ন ভোট অবাধ ও সুষ্ঠ হবে তো? ভোটের দিন সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর বাহিনীকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁর বাহিনী সেই নির্দেশ পালন করতে পারবে তো? এখন আরও একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভোটের ফল যদি তদারকি সরকার প্রধানের বিপক্ষে যায়, তাহলে কি তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন? ইউনূসের গতিবিধি কিন্তু অন্য কথা বলছে। তিনি যে কোনও উপায়ে ক্ষমতায় টিকে যাওয়ার একটা চেষ্টা করছেন। উত্তরপাড়ায় তাঁর আচমকা সফর তাঁর ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও সেনাপ্রধান তাঁকে এই বার্তা দিয়েছেন যে তাঁর ইউনিটের দায়িত্ব হবে ভোটের দিন প্রত্যেক নাগরিক যাতে তাদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা। সুতরাং, ১২ ফেব্রুয়ারির দিকে সকলের নজর থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এবার থাকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্ন।
নির্বাচনের পর দ্রুত নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তদারকি সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানী ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রেস সচিব বলেন, আগামী ১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে সেটা যাবে না। সাংবাদিক সম্মেলনের আগে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন জাতীয় সনদ কার্যকর করা নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সচিব জানিয়েছেন, “সব চেয়ে দ্রুত সময়ের ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। যদি দেখা যায় তিনদিনের মধ্যে এমন হল যে সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয় তিনদিনের মধ্যে এটা হয়ে যেতে পারে। ১৫, ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটা হতে পারে। আমার মনে হয় না এটি ১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে। ”
সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি বলেন, “ভোটে পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।” আগের দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন “নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে বলে যে প্রচার করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। এর পিছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। যারা এই ধরনের কথা ছাড়াচ্ছেন, তাঁরা কয়েকদিন আগে নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরির চেষ্টা করেছিল। এখন নির্বাচনের সময় মতো হচ্ছে দেখে তারা নতুন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব হাজির করেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি এই রকম অসৎ প্রোপাগান্ডায় অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। বাস্তবে এই ধরনের বিভ্রান্তির কোনও সুয়োগ নেই।”
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তের সচিবালয়ের আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, “ এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। এখনই আপনাদের চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের সামনে দুটি অপসন খোলা রয়েছে। একটি হচ্ছে মাননীয় রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনও ব্যক্তি শপথগ্রহণ করতে পারেন। তিনি প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। আর তা না হলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিও শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে। তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমরা অপেক্ষা করতে চাই না। আমরা নির্বাচন হওয়ার পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাই। ”












Discussion about this post